প্রচ্ছদ

ঈদ্-এ মিলাদুন্নবী ( সা:) উদযাপন করা সুন্নতে সাহাবা

Eurobanglanews24.com

প্রিয় নবী ﷺ কে পেয়ে খুশি উদযাপন এবং শুকরিয়া আদায়ার্থে মজলিশ সাজানো (আমলে সাহাবা)
—–
মক্কা হতে মদীনায় হিজরতের পথিমধ্যে যুবায়র রা. এঁর সাথে নবী ﷺ-এঁর সাক্ষাত হয়। যুবায়র রা. মুসলমানদের একটি বণিক কাফেলার সাথে সিরিয়া হতে ফিরছিলেন। তখন যুবায়র (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ ﷺ ও আবূ বকর (রাঃ)-কে সাদা রঙ্গের পোশাক দান করলেন। এদিকে মদিনায় মুসলিমগণ শুনলেন যে নবী ﷺ মক্কা হতে মদিনার পথে রওনা হয়েছেন। তাই তাঁরা প্রতিদিন সকালে মদিনার হার্রা পর্যন্ত গিয়ে অপেক্ষা করতেন থাকেন, দুপুরে রোদ প্রখর হলে তারা ঘরে ফিরে আসতেন। একদিন তারা পূর্বাপেক্ষা বেশি সময় প্রতীক্ষা করার পর নিজ নিজ গৃহে ফিরে গেলেন। এমন সময় এক ইয়াহূদী একটি টিলায় আরোহণ করে এদিক ওদিক কি যেন দেখছিল। তখন সে নবী ﷺ ও তাঁর সাথীসঙ্গীদেরকে সাদা পোশাক পরা অবস্থায় মরীচিকাময় মরুভূমির উপর দিয়ে আগমন করতে দেখতে পেল। ইয়াহূদী তখন নিজেকে সংবরণ করতে না পেরে উচ্চস্বরে চিৎকার করে বলে উঠল, হে আরব সম্প্রদায়! এইতো সে ভাগ্যবান ব্যক্তি- যাঁর জন্য তোমরা অপেক্ষা করছ। মুসলিমগণ তাড়াতাড়ি হাতিয়ার তুলে নিয়ে মদিনার হাররার উপকন্ঠে গিয়ে রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এঁর সঙ্গে মিলিত হলেন।

(সহীহ বুখারী ৩৯০৬)

রাসূলুল্লাহ্ ﷺ মদিনার হাররার একপাশে অবতরণ করে আনসারদের খবর দেন। তাঁরা নবী ﷺ এঁর কাছে এলেন এবং উভয়কে সালাম করে বললেন, আপনারা নিরাপদ ও মান্য হিসেবে আরোহণ করুন। নবী ﷺ ও আবূ বকর (রাঃ) উটে আরোহণ করলেন আর আনসারগণ অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাঁদেরকে ঘিরে চলতে লাগলেন। (আহ! কত সুন্দরই না ছিল এ দৃশ্য…!)
মদিনার লোকেরা (স্লোগান দিয়ে) বলতে লাগলেন, “আল্লাহর নবী এসেছেন, আল্লাহর নবী এসেছেন”, লোকজন উঁচু স্থানে উঠে তাঁদের দেখতে লাগল। আর বলতে লাগল “আল্লাহর নবী এসেছেন, আল্লাহর নাবী এসেছেন”। তিনি সম্মুখ পানে চলতে লাগলেন।

(সহীহ বুখারী ৩৯১১)

হযরত আবূ বকর (রা.) বলেন, রাতে তাঁরা (যখন) মদীনায় পৌঁছেন, (তখন) রাসূলুল্লাহ ﷺ কার গৃহে অবস্থান করবেন, এ নিয়ে লোকদের মধ্যে বাক-বিতণ্ডা শুরু হলো। তখন তিনি ﷺ বললেন, আমি আবদুল মুত্তালিবের মামার বংশ বানু নাজ্জারে অবস্থান করব এবং তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করব। অতঃপর পুরুষ লোকেরা ও মহিলাগণ নিজ নিজ গৃহের ছাঁদে এবং বালক ও ক্রীতদাসগণ পথে পথে বিক্ষিপ্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ল। সকলে অভ্যর্থনা জানিয়ে উচ্চঃস্বরে ইয়া রাসূলাল্লাহ ﷺ এর স্লোগান দিতে লাগল।

(সহীহ মুসলিম ৭৪১২)

বারা‘ ইবনে আযিব (রাঃ) বলেন, নবী ﷺ আগমনে মদিনাবাসী যতখানি আনন্দিত হয়েছিল ততখানি আনন্দিত হতে কখনো দেখিনি। এমনকি দাসীগণও বলছিল, নবী ﷺ শুভাগমন করেছেন।

(সহীহ বুখারী ৩৯২৫)

শুধু তা-ই নই হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) বলেন,

রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন মদীনায় আসলেন তখন আবিসিনিয়রা (হাবশীরা) তাঁর আগমনের খুশিতে বল্লম (বর্শা) নিয়ে খেলায় মেতে উঠে।

(সুনান আবূ দাউদ ৪৯২৩)

এখন অনেকে বলতে পারেন, তাঁরা মদীনায় আগমনের খুশি জুলুশ করেছে, দুনিয়ায় আগমনের দিনে নয়। আরে, আমরা বলছি না যে, তাঁরা ১২ ই রবিউল আউয়াল নবীর দুনিয়াতে আগমনের কারণে খুশি উদযাপন করেছেন তাই আমরাও ঐ দিনে খুশি উদযাপন করি। বরং আমরা বলতে চাই, খুশি উদযাপন করে জুলুশ করা জায়েজ, এটা সাহাবায়ে কেরামের আমল থেকে প্রমাণিত এবং আল্লাহ তায়ালা নিজেই আনন্দিত হওয়ার খুশি উদযাপন করার অনুমতি দিয়েছেন কুরআনে পাকে। এবার আসুন, সাহাবায়ে আরো কয়েকটি কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জ্ঞাত হই।

আবূ জুহায়ফা রাঃ বলেন, (একদা) আমাকে নবী ﷺ এঁর নিকটে নেয়া হল। নবী ﷺ তখন আবতাহ নামক স্থানে দুপুর বেলায় একটি তাঁবুতে অবস্থান করছিলেন। বেলাল (রাঃ) তাঁবু থেকে বেরিয়ে এসে যোহরের নামাজের আযান দিলেন এবং (তাঁবুতে) পুনঃপ্রবেশ করে নবী ﷺ এঁর ওযূর অবশিষ্ট পানি নিয়ে বেরিয়ে এলেন। সাহাবায়ে কেরাম এটা নেয়ার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়লেন।

(সহীহ বুখারী ৩৫৬৬)

তিনি আরো বলেন, তারা তাঁর ওযূর পানির জন্য প্রতিযোগীতা করছে। কেউ সামান্য পানি পাওয়া মাত্র তা দিয়ে শরীর মুছে নিচ্ছে। আর যে পায়নি সে তার সাথীর ভিজা হাত হতে নিয়ে নিচ্ছে।

(সহিহ বুখারী ৩৭৬)

নামাজ শেষে লোকজন দাঁড়িয়ে গেল এবং নবী ﷺ এঁর উভয় হাত ধরে তারা নিজেদের মাথা ও চেহারায় বুলাতে লাগলেন। (আবূ জুহায়ফা (রাঃ) বলেন) আমিও নবী ﷺ এঁর হাত মোবারক ধরে আমার চেহারায় বুলাতে লাগলাম। তাঁর হাত তুষার চেয়ে স্নিদ্ধ শীতল ও কস্তুরীর চেয়ে অধিক সুগন্ধ ছিল।

(সহীহ বুখারী ৩৫৫৩)

হযরত আনাস (রাঃ) বলেন, আমি দেখেছি নাপিত রাসূলুল্লাহ ﷺ এঁর চুল কাটছে আর সাহাবীরা তাঁর চতুর্পাশ ঘিরে রেখেছেন। তাঁরা চাইতেন যে, কোন চুল যেন মাটিতে না পড়ে তা যেন কারো না কারো হাতে পড়ে।

(সহিহ মুসলিম ৫৯৩৭)

উরওয়াহ ইবনে মাসউদ (যিনি পরবর্তীতে ইসলাম গ্রহণ করেন) কুরাইশদের উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন-

“হে আমার কওম, আল্লাহর কসম! আমি অনেক রাজা-বাদশাহর দরবারে প্রতিনিধিত্ব করেছি। কায়সার, কিসরা ও নাজাশী সম্রাটের দরবারে দূত হিসেবে গিয়েছি; কিন্তু আল্লাহর কসম করে বলতে পারি যে, কোন রাজা বাদশাহকেই তার অনুসারীদের মত এত সম্মান করতে দেখিনি, যেমন মুহাম্মাদের অনুসারীরা তাঁকে করে থাকে।

আল্লাহর কসম! আল্লাহর রসূল ﷺ যদি থুথু ফেলেন, তখন তা কোন সাহাবীর হাতে পড়ে এবং সঙ্গে সঙ্গে তারা তা তাদের গায়ে মুখে মেখে ফেলেন। তিনি কোন আদেশ দিলে তারা তা সঙ্গে সঙ্গে পালন করেন; তিনি ওযু করলে তাঁর ওযুর পানি নিয়ে সাহাবীগণের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়; তিনি কথা বললে, সাহাবীগণ নিশ্চুপ হয়ে শুনেন। এমনকি তাঁর সম্মানার্থে তারা তাঁর চেহারার দিকেও তাকান না।

(সহিহ বুখারী ২৭৩২)

মুসআব বিন আবদুল্লাহ রহঃ বলেন, তাঁকে কোন হাদিস জিজ্ঞেস করা হলে তিনি ওযূ করে ভাল পোষাক পড়ে সুন্দরভাবে প্রস্তুতি নিতেন। তাঁকে এর কারণ জিজ্ঞেস করা হলে তিনি জবাবে বলেন এ হল রাসূল ﷺ এঁর হাদিসের জন্য সম্মান প্রদর্শন। (কাযী আয়াজ রহঃ, তারতীবুল মাদারিক ১/১৫৪ পৃষ্ঠা)

এগুলো কোথায় পেয়েছেন…!
এগুলো কি ফরয, ওয়াজিব…….

কিন্তুু হ্যাঁ, এটাই তাঁর প্রতি তাজিম, আদব, সম্মান, ভালবাসা। এই তাজিম, আদব, সম্মান, ভালবাসা কিন্তু ফরয।

তাঁকে সকল কিছুর চেয়ে বেশি ভালবাসা ঈমানের অঙ্গ।
ভালবাসা থেকেই তো তাজিম, আদব, সম্মানের জন্ম।

আমরা কি পেরেছি মুমিন হতে…….!

রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেনঃ “তোমাদের কেউ মু’মিন হতে পারবে না, যতক্ষন আমি তার কাছে তার পিতা, সন্তান ও সব মানুষের চেয়ে বেশী না প্রিয় হই।”

(সহীহ বুখারী ১৫)

তাঁর প্রতি তাজিম, আদব, সম্মান প্রদর্শন সকলের জন্যেই অপরিহার্য। প্রকাশভঙ্গিটা হতে পারে ভিন্ন ভিন্ন। আপনি কি সেসব সুযোগ পেয়েছেন যেভাবে সাহাবায়ে কেরাম পেয়েছেন? তাই তো এক এক জনের এই প্রকাশভঙ্গিটা এক এক রকম। শরীয়তের মূলনীতির সাথে সংঘর্ষমূলক না হলেই হল।

আর তাই-ই তো তিনি ﷺ বলেন, যদি কেউ এমন কিছুর প্রচলন করল যা আমাদের দ্বীনের মৌলনীতির সাথে সামঞ্জস্যহীন, তাহলে তা প্রত্যাখ্যাত”।

(সহিহ বুখারি ২৬৯৭, মেশকাত ১৪০)

এবং আরো বলেন,

“কেউ ভালো কাজের কিংবা প্রথার প্রচলন করলে এবং তার অনুসরণ করা হলে সে তার নিজের সাওয়াবও পাবে এবং তার অনুসারীদের সমপরিমাণ সাওয়াব পাবে, তবে তাদের সাওয়াব থেকে একটুও কমানো হবে না। আবার কেউ মন্দ কাজের প্রচলন করলে এবং তার অনুসরণ করা হলে তার উপর নিজের গুনাহ্ বর্তাবে উপরন্তু তার অনুসারীদের সম-পরিমাণ গুনাহর অংশীদারীও হবে, কিন্তু তাতে অনুসরণকারীদের গুনাহর পরিমাণ একটুও কমানো হবে না।”

[সহিহ মুসলিম (ইফাঃ) ৬৫৫৬, তিরমিযী ২৬৭৫,
সুনানে ইবনে মাজাহ ২০৩, নাসায়ী ২৫৫৪, দারিমী ৫১২
মুসনাদে আহমাদ ১৮৬৭৫, ১৮৬৯৩, ১৮৭০১]

আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন, মুআবিয়া (রাঃ) বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ্‌ ﷺ বের হয়ে তাঁর সাহাবীদের এক মজলিসে পৌঁছলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ তোমাদের এখানে কিসে বসিয়েছে? তারা বললেনঃ আমরা আল্লাহ্‌র স্মরণে এবং তিনি যে আমাদেরকে হিদায়াত দান করেছেন এবং আপনাকে প্রেরণ করে আল্লাহ তা’আলা আমাদের উপর যে ইহসান (অনুগ্রহ) করেছেন তার শোকর আদায় করার জন্য বসেছি। তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ সত্যিই কি তোমরা এজন্য এখানে বসছো? তাঁরা বললেনঃ আল্লাহ্‌র শপথ! আমরা এজন্যই এখানে সমবেত হয়েছি। তিনি বললেনঃ আমি তোমাদেরকে মিথ্যাবাদী মনে করে তোমাদের থেকে শপথ নেইনি বরং এজন্য (নিয়েছি) যে, জিব্‌রাঈল (আ) এসে আমাকে সংবাদ দিলেন যে, আল্লাহ্‌ তা’আলা তোমাদের ব্যাপারে ফিরিশতাদের সামনে গৌরব (গর্ব) করেছেন।

(সুনানে আন-নাসায়ী ৫৪২৬)

কিছুটা পরিবর্তিত শব্দে উক্ত ঘটনা সহিহ মুসলিমেও (৬৭৫০) এসেছে।

কেনই বা তাঁকে পাওয়ার শুকরিয়া আদায় করবেনা..! তিনিই যে আমাদের প্রতি মহান রব তায়ালার সবচেয়ে বড় অনুগ্রহ। আল্লাহ পাক কুরআনুল কারীমে উল্লেখ করেন,

“নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা মু’মিনদের প্রতি মহা অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি তাদের জন্য তাদেরই মধ্য হতে একজন রাসূল প্রেরণ করেছেন। যিনি তাদের নিকট তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করে শুনাবেন, তাদেরকে পবিত্র করবেন এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দিবেন। অথচ ইতিপূর্বে তারা ছিল সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় নিমজ্জিত।”

(সূরা আলে ইমরান ১৬৪)

الحَمْدُ لِلَّه الحَمْدُ لِلَّه الحَمْدُ لِلَّه

ধন্য করলেন আপনি বনু হাশিম কুল
আপনাকে পেয়ে ধন্য হল সারা বিশ্বকুল
বিভোর হল আপনার প্রেমে সকল প্রাণীকুল
আপনাকে ভালবাসি হে প্রিয় রাসূল ﷺ

অনুগ্রহ তথা নিয়ামত প্রাপ্তির শুকরিয়া আদায় করার নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

“আর যখন তোমাদের রব ঘোষণা দিলেন, ‘যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের বাড়িয়ে দেবো, আর যদি তোমরা অকৃতজ্ঞ হও, নিশ্চয় আমার আযাব বড় কঠিন।” (সূরা ইব্রাহীমঃ ৭)

আর তাই আল্লাহ পাক (মূসা আঃ কে) নির্দেশ দেন,

“তাদেরকে আল্লাহর দিবসসমূহ (অনুগ্রহ কিংবা অনুগ্রহের দিনগুলো) স্মরণ করিয়ে দাও’। এতে তো নিদর্শন রয়েছে প্রত্যেক পরম ধৈর্যশীল ও পরম কৃতজ্ঞ ব্যক্তির জন্য।” (সূরা ইব্রাহিমঃ ৫)

এছাড়াও অনুগ্রহ এবং রহমত প্রাপ্তিতে আনন্দ প্রকাশ করার অনুমোদন তো আল্লাহ তায়ালা দিয়েছেনই-

“(হে রাসূল!) আপনি বলুন, আল্লাহরই অনুগ্রহ (ফদ্বল) ও তাঁরই দয়া (রহমত) এবং সেটারই উপর তাদের আনন্দ প্রকাশ করা উচিত। এটা তারা যা (পার্থিব সম্পদ) সঞ্চয় করছে তা হতে অধিক উত্তম।’
(সূরা ইউনুস ৫৮)

আর তা-ই তো প্রিয় নবী ﷺ এঁর এই ধরাতে আগমনের মাসে তাঁর প্রেমিকরা খুশি উদযাপন করে থাকে এবং বিশ্ববাসীকে তাঁর আগমনের দিনটির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, মহান অনুগ্রহের কথা স্মরন করিয়ে দেয় এবং শুকরিয়া আদায়ার্থে বেশি বেশি মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে থাকে। যদিও তাঁর আগমনের দিনে খুশি উদযাপনের রীতি সরাসরি সাহাবায়ে কেরাম কর্তৃক প্রমাণিত নই কিন্তু কুরআন হাদিসের কোথাও এর নিষেধাজ্ঞাও নেই বরং এর স্বপক্ষেই প্রমাণ রয়েছে এবং ভাল নতুন রীতি উদ্ধাবনকারী কিয়ামত পর্যন্ত এর উপর আমলকারী প্রত্যেকের সাওয়াবের ভাগীদার হওয়ার কথাও এসেছে। সাহাবায়ে কেরাম যেভাবে প্রিয় নবী ﷺ এঁর প্রতি ভালবাসা-সম্মান প্রকাশের সুযোগ পেয়েছে আপনিও কি সেসব সুযোগ পেয়েছেন! মনে রাখা উচিৎ নবীপ্রেম ঈমানের অঙ্গ।

পরিশেষে মহান রবের পবিত্র কালামের ভাষায় বলতে চাই,

“সুতরাং আল্লাহর অনুগ্রহগুলোকে স্মরণ করো এবং পৃথিবীতে ফিতনা-ফাসাদকারী হয়ে বিচরণ করো না।” (সূরা আ‘রাফ, আয়াত ৭৪)

“ওহে যারা ঈমান এনেছ! ভালো বিষয়গুলো যা আল্লাহ্ তোমাদের জন্য বৈধ করেছেন সেসব তোমরা নিষিদ্ধ করো না, আবার বাড়াবাড়িও (সীমালঙ্ঘন) করো না। নিঃসন্দেহে আল্লাহ্ ভালোবাসেন না সীমালঙ্ঘন কারীদের।” (সূরা আল মায়িদাহঃ ৮৭)

“আর আল্লাহর নির্দেশকে হাস্যকর বিষয়ে পরিণত করো না। আল্লাহর সে অনুগ্রহের কথা স্মরণ কর, যা তোমাদের উপর রয়েছে এবং তাও স্মরণ কর, যে কিতাব ও জ্ঞানের কথা তোমাদের উপর নাযিল করা হয়েছে যার দ্বারা তোমাদেরকে উপদেশ দান করা হয়। আল্লাহকে ভয় কর এবং জেনে রাখ যে, আল্লাহ সর্ববিষয়েই জ্ঞানময়। (সূরা বাকারাহঃ ২৩১)

“আর যারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে/ মিথ্যা প্রতিপন্ন করছে, অচিরেই আমি তাদেরকে ক্রমে ক্রমে এমনভাবে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাব যে, তারা জানতেও পারবে না। (সূরা আরাফঃ ১৮২)