Main Menu

ইউরোপের অন্যান্য দেশের কাছে গ্রীস করোনা যুদ্ধে রোল মডেল

জাকির হোসেন চৌধুরী, গ্রীস থেকে: গ্রিক সরকার যথাযথ ভাবে সংক্রমন ছড়ানোকে নিয়ন্ত্রণ করে মৃত্যুর হার কমিয়ে আনার সাথে সাথে আক্রান্তের সংখ্যাও আয়ত্তে রেখেছেন।

গ্রীসে আজ সোমবার ৪ঠা মে থেকে লকডাউন বা স্বাভাবিক চলাফেরায় নিষেধাজ্ঞা তোলা সত্ত্বেও যদি সামাজিক দূরত্ব না মানা হয় বা করোনা সংক্রমণ ছড়াতে পারে এইরকম কার্যক্রম থেকে জনগণ দূরে না থাকে ,তাহলে আবারো নতুন করে লকডাউন ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েই যাচ্ছে। । এর কারণ পরিলক্ষিত হচ্ছে জনগণের মাঝে ,যেমন লকডাউন খোলার ঘোষণা শুনেই লোকজন এক সপ্তাহে আগে থেকেই লকডাউন তুলে নেওয়ার উৎসব মানাচ্ছেন ,ভুলে গেছেন অনেকেই লকডাউন বা স্বাভাবিক চলাফেরায় নিষেধাজ্ঞার কথা।

গ্রিক সরকারের কঠোর নিয়ম নীতির কারণেই করোনা প্রতিরোধ সম্ভব হয়েছে বলে অনেকেই মনে করছেন। যদিও এখনো করোনার আতংক একেবারেই শেষ হয়ে যায়নি ,তবু অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সামাল এবং জনজীবনকে স্বাভাবিক করার লক্ষে গ্রিক সরকার বাধ্য -বাদ্ধবাধকতার মধ্যে শর্ত-সাপেক্ষে লকডাউন তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ,তার সাথে জনগণকে ৫টি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার অনুরোধ করেছেন। যেমন :
১) জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত ঘরের বাহিরে যাওয়া থেকে বিরত থাকা
২) একান্ত প্রয়োজনে যদি বের হতে হয় তাহলে অবশ্যই মুখোশ বা মাস্ক এবং হাতমোজা বা গ্লোভস ব্যাবহার করা।
৩)জনসমাগমে যাওয়া থেকে বিরত থাকা , সর্বক্ষেত্রে নিরাপদ সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখা।
৪) ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত এবং সুপার সপ গুলোতে নিজ দায়িত্বে একে অপরের দূরত্ব বজায় রাখাসহ ক্রেতা- বিক্রেতাদের আচরণবিধি মেনে চলা।
৫) বদ্ধ স্থানে বা গণ পরিবহনে মাস্ক পরাসহ চলাচল নিয়ম নীতি মানা।

লকডাউন শিথিল সত্ত্বেও যদি কেহ উপরোক্ত নিয়মাবলী অমান্য করেন ,তাহলে তাকে গুনতে হবে ১৫০ ইউরো জরিমানা।

কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশির আক্রান্তের খবর পাওয়া গেলেও সঠিকভাবে বলা যাচ্ছেনা ঠিক কতজন প্রবাসী বাংলাদেশী আক্রান্ত হয়েছেন এই কভিড -১৯ বা নভেল করোনা ভাইরাসে। তবে প্রথম সনাক্তকারী বাংলাদেশীর সাথে যারা একই বাসায় একসাথে থাকতেন ,তাদের অনেকেই নিজ উদ্যোগে আলাদা বাসায় থেকেই আলাদা আলাদা ভাবে কোয়ারেন্টাইন পালন করছেন। জানা যায় তাদের মধ্যে একজন স্বেচ্ছায় বিগত ১৪ দিন হাসপাতালে থেকে কোবিদ -১৯ এর সকল নমুনা পরীক্ষা শেষে “করোনা নেগেটিভ” সার্টিফিকেট নিয়ে নিজ বাসায় ফিরেছেন। প্রথম করোনা সনাক্তকারীর সাথে দূতাবাস প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখছেন এবং হাসপাতালের বরাত দিয়ে দূতাবাস জানিয়েছেন উনি সুস্থ্য আছেন এবং তাহার সকল নমুনা পরীক্ষা দু;একদিনের মধ্যে সম্পন্ন হলে হয়তো বা হাসপাতাল কতৃপক্ষ উনাকেও ছাড়পত্র দিতে পারেন।

দেশটিতে আজ দু ‘ জনের মৃত্যু হয়েছে ,নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন আরো ৬ জন , ৩৫ জন নিবিড় পরিচর্যা বা আইসিউতে আছেন , হাসপাতাল থেকে সুস্থ্য হয়ে বাসায় ফিরে গেছেন ৮১ জন। মহামারী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এই পর্যন্ত দেশটিতে মারা গেছেন ১৪৬ জন এবং সর্বমোট আক্রান্ত হয়েছেন ২৬৩২ জন। সুস্থ্য হয়ে বাসায় ফিরে গেছেন সর্বমোট ১৪৭৩ জন।






Related News

Comments are Closed