প্রচ্ছদ

চলে গেলেন শিল্পী কালিদাস কর্মকার

Eurobanglanews24.com

শিল্পী কালিদাস কর্মকার আর নেই। বাংলাদেশের চিত্রকলার জগতে তিনি অনন্য এক নাম, যিনি দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিশ্বশিল্পের আঙিনায় নিজের শিল্পকর্মকে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। তার মৃত্যুতে দেশের শিল্পীসমাজে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার মৃত্যতে শোক জানিয়ে বাণী দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

 

গ্যালারি শিল্পাঙ্গনের পরিচালক রুমী নোমান জানান, গতকাল শুক্রবার দুপুরে কালিদাস কর্মকার তার বাড়ির বাথরুমে জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যান। এরপর তাকে ল্যাবএইড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তিনি মারা যান। পরে তার মরদেহ রাজধানীর বারডেম হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়। তার দুই মেয়ে দেশের বাইরে থাকেন। তারা আজ শনিবার দেশে ফিরবেন।

 

রুমী নোমান ইত্তেফাককে আরো জানান, শিল্পী কালিদাস কর্মকারকে রবিবার সকাল ১০টায় শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণে আনা হবে। এরপর সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার মরদেহ নেওয়া হবে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার চত্বরে। সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে।

 

কালিদাস কর্মকারের ‘পাললিক’ সিরিজ যেন বাংলার মানুষ ও ঐতিহ্য অন্বেষণের এক ধারাবাহিক চিত্রমালা। শিল্পীর সব প্রদর্শনীর সঙ্গে ‘পাললিক’ শব্দটি জড়িয়ে থাকত। পলিমাটির এই দেশ তার চিন্তায় মিশে ছিল সব সময়। তারই প্রকাশ যেন তিনি ঘটাতে চাইতেন সেই শব্দের মধ্য দিয়ে। শিল্পী ইত্তেফাককে এক সাক্ষাত্কারে বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশ—এই ভূখণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে পলি জমে জমে। এই অঞ্চলে মানুষের মনও তাই পলির মতোই নরম। এই সময়ের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ক্ষমতার লড়াইয়ে বঞ্চনার শিকার এসব মানুষের মন মরে যাচ্ছে। কিন্তু এত অস্থিরতার পরেও শেষ পর্যন্ত সেই মানুষ জেগে উঠছে তার স্বকীয়তায়। তার আদি চরিত্রে। জীবনের এই কথা, এই উপলব্ধি সব সময় আমার কাজে তুলে আনতে চেয়েছি।’

 

বাংলাদেশের শিল্পকলাকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ করেছেন শিল্পী কালিদাস কর্মকার। বাংলাদেশসহ ৫০টিরও বেশি দেশে প্রায় ৭০টির মতো একক প্রদর্শনী করেছেন তিনি। ফ্রিল্যান্স শিল্পী হিসেবে কাজ করতেন। তিনি বড়ো ক্যানভাস ও ডিটেইল কাজের জন্য সমকালীন শিল্পীদের মধ্যে বিশেষ আলোচিত ছিলেন। তার ছবিতে গহিন প্রশ্ন আছে, যুক্তির বেড়াজালের বাইরে বেরিয়ে তার ছবিতে মুখ্য হয়ে ওঠে অতল আবেগ। রূঢ় বাস্তবতা যেমন নিঃসংকোচে প্রকাশ করেছেন, তেমনি নান্দনিকতার স্পর্শ তার ছবিকে করে তুলেছে মোহময়, রহস্যময়। কালিদাসের ছবিতে শুধু বেদনা এবং বেদনা প্রকাশের ব্যাপারটিই মুখ্য নয়, বরং এটি সময়, স্থান এবং অবিশ্রান্ত মানবীয় অভিজ্ঞতার মধ্যকার সম্পর্ককে মূর্ত করে তোলে। তার কাজে সামান্য উপাদান, বুনট, আকার এবং রঙের সুনির্দিষ্ট প্রয়োগ দেখা যায়। প্রকাশ পায় শিল্পীর উচ্ছ্বাস, অভিব্যক্তি, শুদ্ধতা, বেদনা, স্মৃতি আর একাকিত্ব।

 

 

 

শিল্পী কালিদাস কর্মকারের জন্ম ১৯৪৬ সালে ফরিদপুরে। ইউরোপীয় আধুনিক ঘরানার এই শিল্পী তত্কালীন ঢাকা ইনস্টিটিউট অব আর্টস থেকে ১৯৬৩-৬৪ সালে চিত্রকলায় প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা লাভ করেন। পরবর্তীকালে ১৯৬৯ সালে কলকাতার গভর্নমেন্ট কলেজ অব ফাইন আর্টস অ্যান্ড ক্রাফট থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হওয়ার গৌরব অর্জন করেন তিনি। জীবদ্দশায় কালিদাস একুশে পদক ছাড়াও শিল্পকলা পদক, সুলতান স্বর্ণপদকসহ বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

বিনোদন

আর্কাইভ

January 2020
M T W T F S S
« Dec    
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031