প্রচ্ছদ

বরিসের প্রস্তাব নাকচ পার্লামেন্টে

Eurobanglanews24.com

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের তোলা আগাম নির্বাচনের প্রস্তাব ভোটাভুটিতে হেরেছে। স্থানীয় সময় সোমবার ৩১১ ও ৩০২ ভোটে এই প্রস্তাবের নিষ্পত্তি হয় বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়। ফলে এই অধিবেশনের মধ্য দিয়ে পাঁচ সপ্তাহের বিরতিতে গেল ব্রিটিশ পার্লামেন্ট।

 

সরকারের পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত ব্রিটিশ পার্লামেন্টের অধিবেশন স্থগিত থাকবে। ব্রেক্সিট বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আগামী মাসের ১৭-১৮ তারিখ ইইউ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

 

বরিসের আগাম নির্বাচনের প্রস্তাব যে নাকচ হবে তা আগেই আঁচ করা গেছে। কারণ বিরোধীরা আগেই জানিয়ে রেখেছেন, এ ধরনের প্রস্তাবে তাঁরা কিছুতেই সমর্থন দেবেন না। তাঁদের দাবি, আগে চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট কার্যকর না করার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে বরিস সরকারকে। তারপর নির্বাচন।

 

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদ কার্যকর হওয়ার দিনক্ষণ নির্ধারিত রয়েছে। চুক্তি ছাড়া বা চুক্তিসহ যেকোনো উপায়েই ওই সময়সীমার মধ্যে ব্রেক্সিট কার্যকর করতে চান প্রধানমন্ত্রী বরিস। তবে তাঁর এই নীতির ঘোরবিরোধী ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বিরোধী দলগুলোর আইন প্রণেতারাসহ খোদ সরকারি দলের কিছু বিদ্রোহী সদস্য। চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট ঠেকাতে একটি বিল পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে পাস হয়েছে। সোমবার পার্লামেন্ট অধিবেশনের শেষ দিবসে ওই বিলটি আইনে পরিণত হওয়ার কথা ছিল। বিলটিতে বলা হয়েছে, ১৯ অক্টোবরের মধ্যে নতুন চুক্তি বা চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট পার্লামেন্টে পাস না হলে বিচ্ছেদ নির্ধারিত সময় থেকে তিন মাস পেছাতে ইইউর কাছে অনুরোধ জানাতে হবে সরকারকে।

 

এদিকে ব্রেক্সিট নিয়ে ব্রাসেলসের সঙ্গে কোনো চুক্তি করতে ব্যর্থ হলে সরকার ব্রেক্সিট পিছিয়ে দিতে বাধ্য হবে—এমন আইনে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দিয়েছেন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হাউস অব লর্ডস সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে। পার্লামেন্টে পাস হওয়া আইনটি নিয়ে হাউস অব লর্ডস এক টুইটারে বলেছে, ‘ইইউ উইদড্রলসিক্স বিল’ রাজকীয় সম্মতি লাভ করেছে।

 

মূলত নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ব্রেক্সিট কার্যকর করতে আগাম এই নির্বাচনের প্রস্তাব তোলেন বরিস। তাঁর ঘোষণা, ‘মরব, কিন্তু ব্রেক্সিট পেছাব না।’ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট থেকে বিবৃতি এসেছিল, ৩১ অক্টোবরের মধ্যেই ব্রেক্সিট কার্যকর করার জন্য সরকারের হাতে নতুন নির্বাচন ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই। তাই সরকার ১৫ অক্টোবর নতুন নির্বাচনের পরিকল্পনা করছে।

 

তবে চলমান এই বিষয়ে বরিসকে নিজ দলের আইন প্রণেতাদেরও বিরোধিতায় পড়তে হয়েছে। চলতি অধিবেশনের প্রথম দিন গত মঙ্গলবার ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির আইনপ্রণেতা ফিলিপ লি বিরোধী লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের আসনে গিয়ে বসেন। তা ছিল চলতি অধিবেশনে বরিসের টানা তৃতীয় হারের ঘটনা। এ ছাড়া চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিটকে অগ্রাধিকার দিয়ে বরিসের সরকার এগোচ্ছে, এমন নীতির বিরোধিতা করে গত শনিবার তাঁর মন্ত্রিসভা থেকে সরে দাঁড়ান অ্যাম্বার রাড।

 

ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে সবচেয়ে বড় ভিন্নমতের জায়গা হচ্ছে আইরিশ ব্যাকস্টপ (যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রণাধীন উত্তর আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে ইইউভুক্ত স্বাধীন দেশ আয়ারল্যান্ডের সীমান্ত খোলা রাখার নিশ্চয়তা)। বিষয়টি নিয়ে সোমবার আইরিশ প্রধানমন্ত্রী লিও ভারাদকারের সঙ্গে বৈঠক করতে ডাবলিন যান বরিস। এ সময় ভারাদকার বরিসকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট ছাড়া ইইউ ত্যাগের কোনো সম্ভাবনা যদি না থাকে, তাহলে বরিসের সরকারকে আইরিশ সীমান্তের ভবিষ্যতের বিষয়টি স্পষ্ট করতে হবে। না হলে উভয় দেশকেই ভুগতে হবে।

আর্কাইভ

সেপ্টেম্বর ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« আগষ্ট    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০