প্রচ্ছদ

সংস্কার ছাড়া অগ্রগতি ধরে রাখা যাবে না

Eurobanglanews24.com

অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। তারপর দীর্ঘ সময় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে (আইএমএফ) গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। সম্প্রতি ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। সম্প্রতি প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপকালে তিনি দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি ও বাংলাদেশে অর্থনীতিতে তার সম্ভাব্য প্রভাব ইত্যাদি বিষয়ে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মশিউল আলম

 

প্রথম আলো: এ মুহূর্তে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা কেমন?

 

আহসান এইচ মনসুর: অর্থনৈতিক খাত সম্পর্কে সরকারের যেসব তথ্য-উপাত্ত আমরা পাই, সেগুলোর সঙ্গে বাস্তবতা এবং আর্থিক নানা সূচকের পার্থক্য দেখতে পাই। সরকারের তথ্যে অর্থনীতিকে বেশ উজ্জ্বল, প্রাণবন্ত, গতিশীল দেখায়; কিন্তু বাস্তবে তা নয়।

 

প্রথম আলো: দু-একটা দৃষ্টান্ত?

 

আহসান এইচ মনসুর: অবশ্যই। যেমন সরকারি হিসাবে বলা হচ্ছে, প্রবৃদ্ধি এখন সবচেয়ে বেশি, কিন্তু আমরা দেখছি বিনিয়োগ আগের মতো নেই এবং শুধু বিনিয়োগ নয়, ব্যক্তি খাতে ঋণের প্রবাহও কমে গেছে। অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় ঋণের প্রবাহ এখন সবচেয়ে কম। তো এত কম ঋণের প্রবাহ, অথচ বলা হচ্ছে আমাদের শনৈঃ শনৈঃ উন্নতি হচ্ছে—এখানে অবশ্যই একটা অসামঞ্জস্য আছে।

 

প্রথম আলো: আর?

 

আহসান এইচ মনসুর: অন্য সূচকগুলোর দিকে যদি তাকাই, যেমন রাষ্ট্রের রাজস্ব আয়, সেখানেও দেখি প্রবৃদ্ধির তথ্যের সঙ্গে প্রকৃত বাস্তবতা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বেশি হলে রাজস্ব আয় বাড়বে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু দেখা যাচ্ছে আমাদের রাজস্ব আয়ের প্রবৃদ্ধি হচ্ছে না। সরকারি হিসাবে বলা হচ্ছে, ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে নাকি ১৮-১৯ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি হয়েছে; কিন্তু দেখা যাচ্ছে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ বা ৯ শতাংশ। এ রকম কেন হবে? এ রকম তো হওয়ার কথা নয়। সাধারণত কী ঘটে? অর্থনীতি যখন চাঙা থাকে, তখন রাজস্বের প্রবৃদ্ধিটা অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির চেয়ে একটু বেশি হয়। সেটা কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি না। রাজস্ব আয় সরকার-কথিত প্রবৃদ্ধির অনুপাতে বাড়েনি।

 

প্রথম আলো: প্রবৃদ্ধি বেশি হলে তো কর্মসংস্থানও বাড়ার কথা?

 

আহসান এইচ মনসুর: হ্যাঁ, কর্মসংস্থানের চিত্রও ভালো নয়। ইনফরমাল কর্মসংস্থান কিছু হচ্ছে বটে, কিন্তু ফরমাল সেক্টরের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে আমরা ব্যাপক ঘাটতি দেখছি। শিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার অত্যন্ত বেশি। অর্থনীতির প্রকৃত অবস্থা নিরূপণ করতে গেলে আমরা এসবের বাইরেও যদি দীর্ঘমেয়াদিভাবে দেখি, তাহলেও কিছু সমস্যা দেখতে পাই। যেমন জিডিপির অনুপাতে রপ্তানি বাড়ছে না, পাঁচ বছর ধরেই বাড়ছে না। এটা একটা খারাপ লক্ষণ। কারণ, আমরা তো মনে করি আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে রপ্তানির প্রাধান্য থাকবে। রপ্তানি বৃদ্ধির দ্বারা প্রবৃদ্ধি বাড়বে। কিন্তু

সেটা যদি না হয়, তাহলে লক্ষণটা ভালো নয়। রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা—ক্রমাগত কমে যাচ্ছে। আগে বাংলাদেশের রেমিট্যান্সের প্রবাহ ছিল জিডিপির ১০ থেকে ১২ শতাংশ; কমতে কমতে এখন ৫-৬ শতাংশে নেমে এসেছে। এই সব দীর্ঘমেয়াদি যে প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে, তা আমাদের অর্থনীতির জন্য শুভ নয়।

 

প্রথম আলো: আপনি বলছেন, সরকারি তথ্য-উপাত্তে অর্থনীতির যে উন্নতি দেখানো হচ্ছে, বাস্তবে সে উন্নতি হয়নি। তাহলে কি অবনতি হচ্ছে? নাকি অর্থনীতি একই রকম আছে?

 

আহসান এইচ মনসুর: সামগ্রিকভাবে অবনতি হয়েছে, এটা আমি বলব না, তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে অবনতি হয়েছে। তা সত্ত্বেও অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। কিন্তু প্রবৃদ্ধির মাত্রাটা যতটা বলা হচ্ছে, সে বিষয়ে আমাদের দ্বিধা আছে। তারপরও আমরা বলব, বিশ্বের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অর্থনীতি এখনো সজীব আছে। কিন্তু ঘোড়ার মতো ছুটছে, এ রকম নয়। প্রবৃদ্ধি ৮ বা ৯ শতাংশ নয়।

 

প্রথম আলো: আপনি বলছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি এখনো সজীব আছে। এটা কীভাবে হচ্ছে?

 

আহসান এইচ মনসুর: বাংলাদেশের অর্থনীতি সজীব হওয়ার অনেক কারণ আছে। একটা হলো বাংলাদেশের শ্রমশক্তি ৩ শতাংশ হারে বাড়ছে; তারা কোনো না কোনোভাবে কিছু না কিছু করে খাচ্ছে। এভাবে আমাদের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হচ্ছে।

 

প্রথম আলো: এ রকম প্রবৃদ্ধি কি আসলেই অর্থনীতির উন্নয়নের লক্ষণ, না আকার বৃদ্ধি?

 

আহসান এইচ মনসুর: এটা আকার বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়। প্রবৃদ্ধি যদি অন্ততপক্ষে ৬ শতাংশ বা তার বেশি না হয়, তাহলে অর্থনীতিতে পরিবর্তন আসে না।

 

প্রথম আলো: আমরা প্রকৃতপক্ষে ৬ শতাংশের ওপরে আছি না?

 

আহসান এইচ মনসুর: আমাদের প্রকৃত প্রবৃদ্ধি হয়তো ৬-৭ শতাংশ। এর বেশি নয়।

 

প্রথম আলো: আমরা শুনতে পাচ্ছি, ভারতের অর্থনীতির অবস্থা এখন খারাপ, ঝুঁকির মুখে। আসলেই কি তাই?

 

আহসান এইচ মনসুর: দেখুন, ভারতের অর্থনীতির যে চিত্রটা আমরা পাচ্ছি, সেটা প্রকৃত চিত্র। তাদের অর্থনীতির বার্ষিক চিত্রে

আর্কাইভ

সেপ্টেম্বর ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« আগষ্ট    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০