প্রচ্ছদ

টেকনাফ বাহারছড়া নৌকা ডুবে ১সাপ্তাহ ধরে জেলে নিখোঁজ উদ্ধার হয়নি লাশ

Eurobanglanews24.com

আজিজ উল্লাহ,চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:-

টেকনাফ বাহার ছড়া উত্তর শিলখালী বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরা শেষ কূলে ফেরার সময়
প্রতিকূল ঢেউয়ের তরঙ্গে পড়ে নৌকা ডুবিতে মোঃ আলম (২৬)নামে একজন জেলে নিখোঁজ হয়ে গত এক সাপ্তাহ পার হয়ে গেলেও এখনো অব্দি জেলের লাশ খোঁজে পাওয়া যায়নি।তার একমাত্র দু’বছরের ফুটফুটে শিশু নুরুল ইসলাম মাহিম বাবার জন্য কেঁদে কেঁদে দিনাতিপাত করছে, শিশু ভাবছে বাবা আসবে,ঈদে নতুন জামা কাপড় চোপড় কেনে দিবে,ঈদে বারার কোলে করে বেড়াবে কিন্তু ঈদ চলে গেছে নতুন কাপড়ও নেওয়া হলে না,বাবাও ফিরে আসেনি তাদের পরিবারে কোরবানও করা হয়নি,পুরা পরিবারে স্থবির অবস্থা বিরাজমান করছে।শিশুর কান্নারও শেষ নেই।অবুঝ শিশু বুঝতে পারিনি তার বাবা আর আসবে না।পরিবার নিখোঁজ লাশের অপেক্ষায় রইলো।

পরিবার সূত্রে জানা যায়,গত মঙ্গলবার ৬ আগস্ট
স্থানীয় উত্তর শিলখালী নুরুল হুদার পুত্র মোঃ আলম(২৬) সাগরে মাছ শিকার করার জন্য একই এলাকার মৃত ছারের আহমদের পুত্র খাইরুল আমিনের নৌকা করে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার জন্য যায়। মাছ শিকার শেষে সকাল ১০.০০ টার সময় কূলে নৌকা ভিড়বার সময় ভয়াল প্রতিকূল ঢেউয়ের মাঝখানে পড়ে নৌকার মাঝি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে প্রতিমধ্যে নৌকা সাগরের পানিতে ডুবে তলিয়ে গেলে ততক্ষণে নিখোঁজ হয় অপেশাদার জেলে মো: আলম।গত এক সাপ্তাহ ধরে জেলে নিখোঁজ হলেও কোন খবরাখবর পায়নি পরিবার।যদিও নৌকার মালিকসহ আত্মীয় স্বজনরা উপকূলীয় বিভিন্ন সাগরের তীরে নিখোঁজ জেলের লাশ খোঁজে করে ছিলেন এমন টা জানা যায়। এখানে উল্লেখ্য করা প্রয়োজন তখন সাগরে বৈরি আবহাওয়া আশংকা থাকায় আবহাওয়া অফিস সতর্ক সংকেত জারি করলেও তা মানেন নি নৌকার বহদ্দার(নৌকার মালিক)এছাড়া নিখোঁজ জেলে কোন পেশাদার মৎস্যজীবীও নয়।পরিবার সূত্রে জানা যায়,মাত্র সেইদিন ঐ ঘাতক নৌকায় জেলের সংকটে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় বলে এমন তথ্য পাওয়া যায়।

এই ব্যাপরে নিখোঁজ জেলে মোঃ আলমের মায়ের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,” দীর্ঘ এক সাপ্তাহ ধরে ছেলে নিখোঁজ কোন খবর পাওয়া যায়নি,ছেলেকে হারিয়ে প্রায় পাগলপারা মা, ছেলের লাশ নয় এক টুকরো আড্ডি( হাড়) পেলেও মনকে বুঝাতে পারবেন বলে আফসোস করেন তিনি।সাগরে নিখোঁজ ছেলের লাশ না হলে এক টুকরো হাড় চায় মা তবু লাশের খোঁজ পেতে সহায়তা কামনা করেন।তিনি আরো জানান,তাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জক ছিলেন নিখোঁজ মোঃ আলম,সেই পরিবারে ৩ ভাই ১বোনের মধ্যে সবার বড়।তাদের মাথা গোঁজানোর ঠিক মত জায়গা নেই ভাঙাচূড়া ঘর এরই মাঝে পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী সন্তানকে হারিয়ে আরো অসহায় পুরা পরিবার।

নিখোঁজ জেলের স্ত্রী মনোয়ারা বেগমের সাথে কথা বলা হলে আবেগাপ্লুত হয়ে কান্না ভেজা কন্ঠে আফসোস করে বলেন সেই তার স্বামীর মৃত লাশের অপেক্ষায় আছে,অন্তত হাড় হলেও পেলে জানাযা পড়ে দাফন করা যাবে, শিশু বড় হলে কবরস্থানে গিয়ে তার বাবার কবর জিয়ারত করে এতটুকু দোয়াও করতে পারবে ,তাদের বিবাহ হয়েছে মাত্র বছর তিনেক এর মধ্যে,তাদের একমাত্র শিশু মাহিমের ভবিষ্যত অনিশ্চিত। শিশুকে পড়া-লেখা করে মানুষের মত মানুষ করতে চায় কিন্তু ছেলের বাবা নিখোঁজ হওয়াতে একমাত্র শিশুর অন্ধকার ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত।স্ত্রী মনোয়ারাকে শিশুর পড়াশোনার ব্যাপারে কেহ দায়িত্ব নিতে চাইলে রাজি কিনা জিজ্ঞেস করা হল তিনি জানান,মানবিক খাতিরে শিশুর ব্যাপারে কেহ এগিয়ে আসলে আল্লাহ রহমত হলে বড় উপকার হবে আশা ব্যাক্ত করেন।

আর্কাইভ

আগষ্ট ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« জুলাই    
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১