প্রচ্ছদ

চামড়ার দামে ধস, কার লাভ-কার ক্ষতি?

Eurobanglanews24.com

কোরবানির চামড়া বা বিক্রি করা অর্থ দান করতে হয়। এই দান এতিমখানা, মাদ্রাসা এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীই পেয়ে থাকে। কিছু মৌসুমি ব্যবসায়ীই এ সময় আয় করেন। কিন্তু এবারের চিত্র একেবারেই ভিন্ন। চামড়ার দাম পেয়ে যাদের উপকৃত হওয়ার কথা তারা এবার তা পাচ্ছেন না। বলা যায় পুরো লাভটাই যাচ্ছে আড়তদার, ব্যবসায়ী আর ট্যানারি মালিকদের পকেটে।

 

অবশ্য ট্যানারি মালিকেরা বলছেন, আড়তদারেরা নিজেরা সিন্ডিকেট করে চামড়ার দাম কমিয়ে দিয়েছে। এতে তারাই লাভবান হবেন। আর আড়তদারদের অভিযোগ ট্যানারি মালিকেরা গতবারের চামড়ার দাম পরিশোধ না করায় এবার বেশির ভাগ আড়তদার বা ব্যবসায়ী চামড়া কেনা থেকে বিরত থেকেছেন। ফলে চামড়ার দাম কমে গেছে।

 

এ বছর ঈদে কোরবানির জন্য পশুর চাহিদা ছিল প্রায় এক কোটি ১০ লাখের মতো। এ জন্য প্রায় ৪২ লাখ গরু প্রস্তুত ছিল। বাকিটা ছাগল ও মহিষ কোরবানি হয়েছে। অর্থনীতিবিদ ও বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চামড়ার বাজারে ধস নামার কারণে দরিদ্র জনগোষ্ঠী কমপক্ষে ৫০০ কোটি টাকা সহায়তা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। অন্যদিকে কম দামে চামড়া কিনতে পারায় এবং এখন কাঁচা চামড়া বিদেশে রপ্তানির অনুমতি মেলায় ৫০০ কোটি টাকার বেশি অতিরিক্ত লাভ হাতিয়ে নেবে আড়তদার, ব্যবসায়ী ও ট্যানারি মালিকেরা। তবে বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন লাভ যাবে আড়তদার ও ব্যবসায়ীদেরই পকেটে। চামড়া রপ্তানি হলে ট্যানারি মালিকেরা তখন আর কম দামে এদের কাছ থেকে চামড়া কিনতে পারবেন না।

 

গতকাল সোমবার থেকে দেশের চামড়ার বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা গেছে। লাখ টাকার গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে মাত্র তিন শ টাকায়। যাঁরা কোরবানি দিয়েছেন, তাঁরা যেমন চামড়ার দাম পাননি, তেমনি দাম পাচ্ছেন না মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন, সিন্ডিকেটের কারণেই বাজারের এ অবস্থা।

গতকাল সোমবার বিকেলে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার চামড়ার অস্থায়ী বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিটি ছোট চামড়ার দাম ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, মাঝারি আকারের প্রতিটি চামড়া ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং বড় চামড়া ৮০০ থেকে ১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই দাম গত বছরের তুলনায় অর্ধেক।

 

রাতে এসে এ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ অবস্থা ধারণ করে। আড়াই শ তিন শ টাকার বেশি কোনো চামড়া বিক্রি হয়নি। সারা দেশেও পরিস্থিতি আরও খারাপ ছিল। ঈদের দ্বিতীয় দিন রাজধানীর পোস্তার চামড়ার আড়ত এবং দেশের বিভিন্ন এলাকায় চামড়ার বাজার আরও খারাপ পর্যায়ে নেমে যায়। পোস্তায় দেড় শ দু শ টাকায় চামড়া বিক্রি করতেও কষ্ট হয়েছে। বিক্রি না হওয়া চামড়া পোস্তার সড়কে পচে নষ্ট হতে দেখা গেছে।

 

আজ দুপুরে পোস্তার আড়তে দেখা হয় নরসিংদীর ব্যবসায়ী হাসান মিয়ার সঙ্গে। বেশি দাম পাওয়ার আশায় ১৮৪টি চামড়া নিয়ে সেখানে এসেছিলেন। সকাল থেকে আড়তে আড়তে ঘুরে সঠিক দাম না পেয়ে ফিরে গেছেন তিনি। এই প্রান্তিক ব্যবসায়ী প্রথম আলোকে জানান, তিন শ থেকে ৫শ টাকায় চামড়া কিনেছেন। প্রতিটি চামড়ার পেছনে খরচ হয়েছে আরও দু শ টাকা করে। কিন্তু বিক্রি করতে এসে প্রতিটি চামড়া আড়াই শ টাকার বেশি দিতে চায়নি কেউ। তাই ফেরত নিয়ে গেছেন।

বিনোদন

আর্কাইভ

ডিসেম্বর ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« নভেম্বর    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১