প্রচ্ছদ

সরিষাবাড়ীতে ৭০ হাজার মানুষ পানিবন্দী

Eurobanglanews24.com

উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে যমুনা, ঝিনাই ও সুবর্ণখালী নদীর পানি বেড়ে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। বানভাসী মানুষের দুর্ভোগ ক্রমে বাড়ছে।

 

সরিষাবাড়ী উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন ও পৌরসভার ৭০ হাজার মানুষ পানিবন্দী। ৭০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বন্যার পানি প্রবেশ করায় পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এক হাজার ৪০০ হেক্টর রোপা-আমন, শাক-সবজি ও বীজতলা তলিয়ে গেছে। ১৭০টি পুকুর ও জলাশয়ের মাছ পানিতে ভেসে গেছে।

 

 

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বন্যার পানি বেড়ে যাওয়ায় উপজেলার তাকাকান্দি-ভুয়াপুর সড়ক বাঁধ যমুনা নদীর ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে। পিংনা ইউনিয়নের কাওয়ামা এলাকায় গতকাল বুধবার থেকে এলাকাবাসী বাঁধ রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। এ সড়ক বাঁধ ভেঙে গেলে যমুনা সার কারখানা কোম্পানি লিমিটেড থেকে ১৯ জেলার সার পরিবহন বন্ধ হয়ে যাবে।

 

পিংনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার মোতাহার হোসেন বলেন, সড়ক বাঁধটি রক্ষায় এলাকাবাসী মাটি ও বালির বস্তা ফেলে কাজ করে যাচ্ছে। বন্যায় চারটি গ্রামের আট হাজার মানুষ পানিবন্দী।

 

সেনাবাহিনীর সহায়তা চেয়ে পিংনা ইউনিয়নের কাওয়ামার গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম বলেন, ‘সড়ক বাঁধ রক্ষা করা না গেলে জামালপুর ও টাঙ্গাইলের সঙ্গে বাংলাদেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাবে। গত দুই যুগ ধরে বন্যার সময় সেনাবাহিনী বাঁধ রক্ষায় সহায়তা দিয়ে আসছেন। এবারও আমরা সেনাবাহিনীর সহায়তা করছি।’

 

পৌর শহরের বাউসী-কোনাবাড়ি গ্রাম প্রতিরক্ষা বেড়িবাঁধটি প্রবল বর্ষণে ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় গত দুই সপ্তাহ ধরে বাঁধ দিয়ে মানুষজন ও যানবাহন চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। বাঁধটি রক্ষায় গত সোমবার দুপুর থেকে গ্রামবাসীর সঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ড জামালপুরের লোকজন কাজ করে যাচ্ছে। বাঁধটি রক্ষা করা না গেলে পাঁচটি গ্রাম প্লাবিত হবে। তিন শতাধিক হেক্টর আবাদি জমিতে বালি পড়বে।

 

কোনাবাড়ি গ্রামের কৃষক আব্দুল লতিফ সরকার (৬০) বলেন, ‘বাঁধের ভাঙন ফেরাতে না পারলে জমিতে বালু পড়ব। তহন আমরা উপায় করমু কী?’ ঘরে পানি ঢুকে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ গবাদিপশু ও পরিবার নিয়ে সড়ক বাঁধের উঁচু স্থানে, কলার ভেলায় ও নৌকায় আশ্রয় নিয়েছেন।

 

সরিষাবাড়ী পৌরসভার প্যানেল মেয়র মোহাম্মদ আলী বলেন, তিন দিন ধরে গ্রামবাসী রাতদিন জেগে বাঁধ রক্ষায় মাটি ও বালির বস্তা ফেলে যাচ্ছে। বাঁধটি রক্ষা করা না গেলে পৌর শহরের ১০টি গ্রামের মানুষজনের ঘরে পানি ঢুকবে।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ড জামালপুরের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী তৈমুর আহম্মেদ বলেন, ‘বাঁধটি রক্ষায় গ্রামবাসীর সহায়তায় জিও ব্যাগ ফেলে কাজ করা হচ্ছে। পানি ক্রমে বৃদ্ধি পাওয়ায় বাঁধ রক্ষা করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে।’

 

গত মঙ্গলবার সকালে উপজেলার পোঘলদিঘা ইউনিয়নের বয়ড়া বাজার-বামুনজানি পাকা সড়কের মালিপাড়া এলাকায় সেতুসহ ২৫ মিটার বানের তোড়ে ভেঙে যায়। পাকা সড়ক ভেঙে যাওয়ায় সরিষাবাড়ী-কাজিপুর দুই উপজেলার সড়ক পথে যাতায়াত বন্ধ রয়েছে। এতে ৪০টি গ্রামের মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে।

 

উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার কার্যালয়, শ্রমকল্যাণ, ডাকঘর, খাদ্য গুদাম, এআরএ পাটকল, আলহাজ পাটকল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বন্যার পানি প্রবেশ করায় সাধারণ মানুষ ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। রেললাইনে পানি উঠতে শুরু করায় রেলপথে যোগাযোগ বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) হুমায়ূন কবীর বলেন, ‘বানভাসি মানুষের জন্য ৮০ টন চাল পাওয়া গেছে। নগদ এক লাখ ১০ হাজার টাকাও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বন্যার্ত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।’

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিহাব উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সড়ক বাঁধ দুটি রক্ষায় সেনাবাহিনীর সহায়তা চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এ সড়কে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ করা হয়েছে।’

 

পানি উন্নয়ন বোর্ড জামালপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী নব কুমার চৌধুরী বলেন, ‘সড়ক বাঁধ দুটি রক্ষায় এলাকাবাসীর সঙ্গে আমাদের লোকজন কাজ করে যাচ্ছে।’

 

বিনোদন

আর্কাইভ

ডিসেম্বর ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« নভেম্বর    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১