প্রচ্ছদ

ইমামতির মর্যাদা ও দায়িত্ব

Eurobanglanews24.com

 

ইমামতি সম্মানজনক ও গুরুত্বপূর্ণ একটি পদ। রাসূল (সা.) ও খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নত। উভয় জগতে সফলতা ও কামিয়াবির মাধ্যমও হতে পারে এই ইমামতি।

 

একজন ইমাম হতে পারেন মানবতার পথপ্রদর্শক ও সরল পথের দিশারি। ইমামের সংশ্রবে ধুধু মরু হয়ে ওঠতে পারে সবুজ-শ্যামল। মৃত কলবও ফিরে পেতে পারে তার হারানো জীবন। আমরা সমাজের দিকে তাকালে দেখতে পাই, যে এলাকার ইমাম সাহেব সচেতন সেখানকার ধর্মীয়, সামাজিক পরিবেশ থাকে অন্য রকম। পরস্পর মিল-মহব্বত, শান্তি ও সৌহার্দ্য বিরাজ করে ওই সমাজে।

 

দ্বীনদারি মানুষকে মানবতাবাদী বানায়। এ জন্য ইমাম বোধসম্পন্ন হলে, তার সংশ্রবে থেকে মুসল্লিরা ভ্রাতৃত্ববোধ ও সহমর্মিতার গুণ শিখে। জেনে রাখা ভালো যে, সৃষ্টি ও স্রষ্টার মাঝে বন্ধন তৈরী করার নাম হচ্ছে ইমামতি। তাই একজন ইমামই পারেন, দিকভ্রান্ত মানুষকে সরল পথে পরিচালিত করতে। আল্লাহর সত্তার সঙ্গে মানুষকে পরিচয় করিয়ে দিতে। ইমামতির পদ উপকারি ও ফায়দাজনক। তবে ঝুঁকিপূর্ণও বটে। ইমামতির কারণে, প্রাসঙ্গিকভাবেও অনেক দায়িত্ব একজন ইমামের ওপর এসে যায়। সেগুলোও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও অসাধারন। তবে যে কেউ চাইলেই সে দায়িত্বগুলো যথাযথভাবে আঞ্জাম দিতে পারবে না। বরং এর জন্য প্রয়োজন যোগ্যতাসম্পন্ন হওয়া। ইমামতির সূচনা করেছেন নবী করীম (সা.)।

 

আরো পড়ুন>>> নামাজে মনোযোগ বাড়ানোর উপায়

 

এখন যারা ইমাম, তারা নবী করিম (সা.) এর ইমামতির উত্তরাধিকারী। তাই উত্তম চরিত্রের দৃষ্টান্ত স্থাপন করাও একজন ইমামের কাজ। যেমন ইমাম হিসেবে নবী করিম (সা.) স্থাপন করে গিয়েছিলেন। আদর্শিক বিচ্যুতি ইমামতির জন্য অযোগ্যের বড় প্রমাণ। অযোগ্য ও চরিত্র-আদর্শ এই দুই গুণ শূন্য ইমাম কখনো দায়িত্ব পালন করতে পারবে না। কেননা যোগ্যতা সম্পন্ন  না হলে, মানুষের নামাজ নষ্ট করবে, বিভিন্ন বিষয়ে ভুল সমাধান দিবে। ইমাম চরিত্রবান ও আদর্শবান না হলে মানুষ কষ্ট পাবে। মানুষ, ইমামের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সমালোচনা করার সুযোগ পেয়ে নিজেদের ইমান-আমলকেও খোয়াবে।

 

একজন নিষ্ঠাবান ইমাম শুধু পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়িয়ে নিজেকে দায়িত্ব মুক্ত ভাববে তা কখনো কাম্য নয়। মানুষ, মনুষ্যত্ব ও সমাজ নিয়েও একজন নবীর উত্তরাধিকারী ইমামকে ভাবতে হবে। মানুষের ইসলাহ ও সংশোধনের প্রতি মনোনিবেশ করতে হবে পূর্ণ মনোযোগের সঙ্গে। প্রথম নামাজের কথাই ধরা যাক। যদি মুসল্লিদের নামাজ সুন্নত মুতাবেক না হয় তাহলে কিছু সময় বের করে সুন্নত মুতাবেক নামাজ শিখাতে হবে। মুসল্লিদের ফরজ পরিমান কেরাত শুদ্ধ না থাকলে এ ব্যাপারে মেহনত করতে হবে। যারা কোরআন তেলাওয়াত শিখেনি, তাদের কোরআন শিখার ব্যবস্থা করতে হবে। নামাজের প্রতি অলস ও উদাসীনকে সচেতন করতে হবে; নামাজের গুরুত্ব বুঝাতে হবে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায়ের পাবন্দ বানাতে হবে।

 

সমাজের কেউ শরীয়ত বিরোধী কাজ করলে আস্তে আস্তে তাকে সংশোধনের চেষ্টা করাও একজন ইমামের দায়িত্ব। ইমামগণ, মুসল্লিদের মাঝে দ্বীনি বুঝ জাগ্রত করে, আল্লাহ তায়ালার সঙ্গে তাদের গভীর সম্পর্ক তৈরি করে দিতে পারলে ইনশাল্লাহ অচিরেই এমন এক সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গড়ে ওঠবে, যেখানকার প্রতিটি নাগরিক হবে দ্বীনের সত্য ও একনিষ্ঠ সৈনিক। যারা হবে ইসলামী তাহজীব-তামাদ্দুনের সংরক্ষক। অনাচার ও পাপাচারের বিরুদ্ধে হবে বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর।

 

মসজিদসমুহে সাধারণত সকালের মক্তব চালু থাকে। বাচ্চাদের নুরানী কায়দা থেকে কোরআন শরিফ, মাসনুন দোয়া, দ্বীনিনের প্রয়োজনীয় ও মৌলিক বিষয় সেখানে শিখানো হয়। ওই বাচ্চারা আমাদের কাছে আমানত। তারা হচ্ছে এ জাতির ভবিষ্যত। এজন্যে ইমামগণের কর্তব্য হচ্ছে, জাতির এই ভবিষ্যত প্রজন্মের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখা। দ্বীনি শিক্ষায় তাদেরকে শিক্ষিত করার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করা। পাশ্চাত্যের সংস্কৃতি থেকে তাদেরকে দূরে রাখা। রাঙ্গিয়ে তোলা ওদের জীবন ইসলামের রঙ্গে। মনে রাখতে হবে, সীরাত হচ্ছে জাতির সফলতার আসল হাতিয়ার। তাই ইমামের দায়িত্ব এটাও যে, বাচ্চাদের চরিত্রকে সীরাতে নববীর খুশবু দিয়ে সুবাশিত করা। রাসূলের (সা.) চরিত্রে তাদেরকে সুশোভিত করা।

 

বাচ্চাদেরকে আত্বমর্যাদাবোধ সম্পন্ন ব্যক্তি হিসেবে গড়ে তোলাও ইমামের অন্যতম দায়িত্ব। কোরআন শিখা, কোরআনের হিফজ করার আগ্রহ তাদের অন্তরে জাগ্রত করতে হবে। মসজিদের ইমামগণ, মকতবের শিক্ষার্থীদের ওপর মেহনত করলে প্রথমত ছাত্ররা মাদরাসা উপযুক্ত বনে যাবে এবং ছাত্ররা দ্বীনি মেজাজের অধিকারী হবে। দ্বিতীয়ত ওই ছাত্ররা যদি মাদরাসায় পূর্ণ আগ্রহ ও উদ্দীপনার সঙ্গে শিক্ষা চালু রাখে এবং উপযুক্ত ও অভিজ্ঞ আলেমে দ্বীন হয়ে বের হয়। এরপর তারা নিজেদের এলাকায় দ্বীনের দাওয়াত, ইসলাম প্রচার, অজ্ঞ ও মূর্খ সমাজে ইলম ও আমলের আলো ছড়ায়। তাহলে ইমামের ওই চেষ্টা সদকায়ে জারিয়ার অন্তর্ভূক্ত হবে। অনন্ত কাল পর্যন্ত সে এর সওয়াব পেতে থাকবে।

আর্কাইভ

আগষ্ট ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« জুলাই    
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১