প্রচ্ছদ

প্রতিদিন তিনশ ভিক্ষুককে চা-সিঙারা খাওয়ান এই বৃদ্ধ

Eurobanglanews24.com

শহরের মানুষের ঘুম ভাঙলেই ভিড় জমে গুলাব সিং জি ধীরাওয়াতের দোকানে। তাইতো তার দিনটা শুরু হয় রাত ৩টায়। এক সেকেন্ডও এদিক-ওদিক নয়। এমন ঘুটঘুটে অন্ধকারেই দোকান খোলেন তিনি। এক ঘণ্টার মধ্যেই চুলায় বসে যায় চায়ের পানি। এরপর দুধ জাল দিতে দিতে অতীতে হারিয়ে যান বৃদ্ধ। আদা, লবঙ্গ, এলাচ, তেজপাতার সঙ্গে উথলে ওঠা দুধের গন্ধে ঘুম ভাঙে জয়পুরের।

 

জয়পুরের অলি-গলিতে অসংখ্য চায়ের দোকান। তারপরও সেখানকার মানুষদের গুলাবের দোকানেই সকালের চা-টা খেতেই হবে! গোটা জয়পুর তাকে চেনে ‘গুলাব জি চাওয়ালা’ নামে। শুধু সাধারণ মানুষ নয়, এই চা-এ চুমুক দিতে লাইন পড়ে যায় নামী-দামি ব্যক্তিত্বদেরও।

 

গুলাব সিং-এর এই দোকানে কয়েক রকমের চা পাওয়া যায়। দোকানটিতে গিয়ে আপনার চা-জার্নি শুরু করতে পারেন গন্ধ ও স্বাদ দিয়ে। ধীরে ধীরে চায়ের গভীরে যাওয়া যাবে। ঘন সর পড়া দুধে নানারকম মশলা দিয়ে বানানো চায়ে যিনি একবার চুমুক দিয়েছেন, তিনি ঘুরে ফিরে আসবেন। অনেকক্ষণ ধরে ফুটিয়ে গ্লাস ভর্তি ঘন ‘কড়ক চা’ খেয়ে বলতেই হবে, ‘বাহ! মামা..বাহ!’

 

 

 

এই দোকানের মাটির গ্লাসে ফুটন্ত তন্দুরি চা পেতে হলে খানিকটা অপেক্ষা করতে হবে। সকালের লাইনে ‘মশলা ম্যাজিক’, ঘন দুধ চা-এর ভিড় একটু পাতলা হলে, বিকেল-সন্ধ্যা থেকে বানানো শুরু হয় তন্দুরি চা। এই চায়ের অধিকাংশ ক্রেতা ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী। কলেজ শেষে বা অফিস ফেরত এক ভাঁড় তন্দুরি চায়ের সঙ্গে ভালোই মিলে জমানো গল্প।

 

 

গুলাবের বিখ্যাত চায়ের দোকান

 

 

এই দোকানটা আজকালের নয়, ১৯৭৪ সালে শুরু করেছিলেন গুলাব সিং। সেই থেকে চলছেই। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দীর্ঘ লাইন। রাত ১০টায় বন্ধ হয় দোকান। প্রতিদিন গড়ে চার হাজারেরও বেশি মানুষ চা খেতে আসেন এই দোকানে। কোনো কোনো দিন আবার ঝটিকা সফরে চা খেয়ে যান সেলিব্রিটিরাও। মশলা চায়ের সঙ্গে সিঙারা, বান মাস্কা, কচুরি বান তো আছেই! অনেকেরই ধারণা গুলাবের চায়ে একটা সিক্রেট রেসিপি রয়েছে, যেটা ৭৩ বছর ধরে সাবধানে আগলে রেখেছেন তিনি!

 

তবে গুলাব বলেন, আমার দোকানের চা আলাদা কিছু নয়। সেই একই চা পাতা, দুধ, মশলা যা সকলে ব্যবহার করে আমিও তাই করি। মানুষের ভালোবাসার সঙ্গে মিশে গেছে জয়পুরের ইতিহাস, তাই চায়ের স্বাদ একটু অন্যরকম লাগে।

 

অন্য এক গুলাব সিং

 

গুলাব সিং শুধু একজন চাওয়ালা নন। তিনি সমাজসেবকও। জয়পুরের মির্জা ইসমাইল রোডের এই দোকানে প্রতিদিন ফ্রিতে চা-সিঙারা খেয়ে যান ৩০০ জন গরিব মানুষ। কেউ চাইলে সিঙারার বদলে মাখন রুটিও নিতে পারেন। রোদ-ঝড়-বৃষ্টিতে যাই হোক, এই খাওয়ানোর বন্ধ নেই। ভিখারিদেরও আসা থেমে থাকে না।  ৩০০ জনের চেনা মুখ অনেক সময়েই বেড়ে ৩৫০ হয়ে যায়। তাতে অবশ্য গুলাবের চায়ের দোকানের দরজা বন্ধ হয় না।

 

গুলাব বলেছেন, মানুষ ভুলে যায় কোনো কিছুই আমাদের নয়। খালি হাতেই ফিরতে হবে সকলকে। মানুষকে আনন্দ দেয়ার মধ্যেই জীবনের সার্থকতা আছে। এই আনন্দের জন্য আমি এই কাজ করি। শেষ নিঃশ্বাস অবধি পরিশ্রম করে যেতে চাই। আরো বেশ কিছু বছর সবাইকে ভালোবাসতে চাই।

 

আর্কাইভ

আগষ্ট ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« জুলাই    
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১