প্রচ্ছদ

বাড়ি-গাড়ি কিছুই নেই তবুও তিনি ২৫ বছর জনপ্রতিনিধি

Eurobanglanews24.com

বাড়ি নেই, গাড়ি নেই। রাত হলে মাথা গোজেন অন্যের বাড়িতে। দিনে সাইকেল চেপে খোঁজ খবর নেন এলাকাবাসীর। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে এই দ্বায়িত্ব পালন করে আসছেন তরুণ বিশ্বাস নামের এক পঞ্চায়েত সদস্য। খবর আনন্দবাজার।

 

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ির দক্ষিণ পাণ্ডাপাড়ার পঞ্চায়েত সদস্য তরুণ বিশ্বাস। তার বয়স ৫০ পেরিয়েছে। পেশায় তিনি শাড়ি বিক্রেতা। তবে একসময় ভ্রাম্যমান ফাস্টফুডের দোকান ছিল তার। মালিক ফেরত চাওয়ায় ঠেলার দোকান সঙ্গে সঙ্গে দিয়ে দিয়েছেন। এখন সাইকেলে করে দিনভর শাড়ি বিক্রি করেন তিনি। তরুণ বিশ্বাস জানালেন, এতে দু’ভাবে লাভ হয় তার। এক, শাড়ি বিক্রি করে মাস শেষে ১০ হাজার টাকা রোজকার হয়। দুই, জনগণের ভালো-মন্দও জানা যায়।

 

 

 

কাপড় বিক্রি করে লাভ হওয়া দশ হাজার টাকার বেশিরভাগই তিনি খরচ করেন মেয়ের পড়ালেখায়। মেয়ে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন। তরুণ বলেন, এই একটি মাত্র স্বপ্ন আমার। মেয়ের পড়ায় যেন সমস্যা না হয়। এরজন্য আমি আমিষ খাওয়া বাদ দিয়েছি। কারণ এতে খরচ বেশি। তাছাড়া ঘর ভাড়া না নিয়ে এক দাদার বাড়িতে থাকছি এখন।

 

তরুণ বিশ্বাস তার সততার কারণে গ্রামে বেশ জনপ্রিয়। তার বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত পুলিশক দীপক বললেন, তরুণ তখন উপপ্রধান। পঞ্চায়েত থেকে নারকেল গাছের চারা বিলি করা হচ্ছিল। আমি গিয়েছিলাম, দেয়নি। বলেছিল, নিজের দাদাকে চারা দিলে লোকে কী বলবে!

 

জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদ আসনের বিজয়ী নুরজাহান বেগম বলেন, যাদের নিজস্ব বাড়ি নেই, তাদের সরকারি প্রকল্পে বাড়ি দেয়ার সুযোগ রয়েছে। তরুণকে জেলা পরিষদ থেকে ঘর দিতে চেয়েছিলাম, ফিরিয়ে দিয়েছেন। বলেছেন, তার থেকেও নাকি অনেক গরিব এলাকায় রয়েছেন।

 

তরুণ বিশ্বাস ১৯৮৩ সালে প্রথম পঞ্চায়েত সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তারপর থেকে নির্বাচনে তিনি কখনো হারেননি। তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক দলের জন্মলগ্ন থেকে। তবে এলাকার ডান-বাম সকলের কাছেই তিনি জনপ্রিয়। এই পঞ্চায়েত সদস্য বলেন, মানুষের জন্য কাজ করি। তাই আমাকে সবাই ভোট দেন।

 

আর্কাইভ

আগষ্ট ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« জুলাই    
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১