প্রচ্ছদ

নীলফামারী জেলায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। উজানের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে গতকাল বৃহস্পতিবার জেলায় তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার ২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। আজ শুক্রবার সেখানে ৬ সেন্টিমিটার পানি কমলেও সকাল নয়টা পর্যন্ত বিপদ সীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে জেলার ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাঁপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, গয়াবাড়ি ও জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা ইউনিয়নের তিস্তা নদীবেষ্টিত প্রায় ১৫টি চরাঞ্চল গ্রামের ১০ হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্রমতে, লালমনিরহাট জেলার দোয়ানীতে অবস্থিত তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে গতকাল তিস্তা নদীর পানি সকাল থেকে বৃদ্ধি পেয়ে রাতে বিপদ সীমার ২৮ সেন্টিমিটার ওপরে ওঠে। আজ পানি কিছুটা কমলেও সকাল ছয়টায় বিপদ সীমার ২৪ সেন্টিমিটার এবং সকাল নয়টায় বিপদ সীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ওই পয়েন্টে তিস্তা নদীর বিপদ সীমা ৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার। আজ সকাল নয়টায় পানি প্রবাহিত হচ্ছিল ৫২ দশমিক ৮২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে। সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, তিস্তা নদীর বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। পানি আরও বৃদ্ধির আশঙ্কায় অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাচ্ছেন। এদিকে অবিরাম বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত বুড়ি তিস্তা, দেওনাই, চাড়ালকাটা, ধাইজান, খড়খড়িয়া যমুনেস্বরীসহ সব নদ–নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলাম বলেন, গতকাল সকাল থেকে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। রাতে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে বিপদ সীমার ২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। আজ সকাল নয়টায় ৬ সেন্টিমিটার কমলেও বিপদ সীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তিস্তা ব্যারেজের সব কটি (৪৪টি) জলকপাট খুলে রেখে সব কর্মকর্তা–কর্মচারীকে সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের দুর্বল স্থানগুলো শক্তিশালীকরণে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো সমস্যা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

Eurobanglanews24.com

বড় রাস্তার মাঝখানে ঘেরা জায়গা, সেখানে আকাশছোঁয়া যন্ত্রপাতি। ঢাকা শহরের অনেক জায়গার এটি একটি পরিচিত দৃশ্য। বলছি মেট্রোরেলের নির্মাণকাজের কথা। যদি সেই নির্মাণাধীন এলাকার আশপাশে ফুটওভার ব্রিজ থাকে, তাহলে তো কথাই নেই। চলার পথে প্রায়ই দেখা যায়, পথচলতি মানুষ দাঁড়িয়ে দেখছেন নির্মাণকাজ। তা দেখবে নাই-বা কেন? এমন কাজ তো এ দেশে আগে হয়নি।

 

আমাদের শহরে মেট্রোরেল আসছে—এ বড়ই স্বস্তির বিষয়। মেট্রোরেলে নাকি অকল্পনীয় কম সময়ে চলে যাওয়া যাবে শহরের এ মাথা থেকে ও মাথায়। থাকবে না যানজট। জটজর্জর এই শহরের সাধারণ নাগরিকদের জন্য এর চেয়ে সুখের কথা আর কী হতে পারে! মেট্রোরেল তো যাবে মাথার ওপর দিয়ে, কিন্তু নিচের রাস্তার অবস্থা কী হবে? এই প্রশ্নটি আরও খোঁচাচ্ছে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায়। সম্প্রতি রাজধানীর যানজট নিরসনে পৃথক তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে রিকশা চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। ঘোষণা অনুযায়ী গাবতলী থেকে আজিমপুর (মিরপুর রোড), সায়েন্স ল্যাব থেকে শাহবাগ ও কুড়িল থেকে খিলগাঁও হয়ে সায়েদাবাদ পর্যন্ত সড়কে এখন থেকে আর রিকশা চলবে না। এ নিয়ে বেজায় ক্ষুব্ধ রিকশাচালকেরা। তাঁরা গত মঙ্গলবার অবরোধ-বিক্ষোভও করেছেন।

 

যেকোনো বিষয়েই আমরা দ্বিধাবিভক্ত থাকি। এ ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। কেউ কেউ বলছেন, রিকশা বন্ধ করে দেওয়ায় তাঁরা বিপদে পড়েছেন। আবার কেউ বলছেন, পুরো ঢাকা শহর থেকেই রিকশা তুলে দেওয়া উচিত। এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে যাঁরা জড়িত, তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া যাচ্ছে ‘হাঁটার অভ্যাস’ তৈরির উপদেশ। বলা হচ্ছে, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতেই রিকশার চলাচল বন্ধের এই পদক্ষেপ। তা ভালো। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরুক, তা আমরা সবাই চাই। কিন্তু সড়কে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য রিকশা আসলে কতটুকু দায়ী?

 

নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলি। আসলে প্রধান সড়কে রিকশায় চড়ার পর যখন পাশ দিয়ে সাঁই সাঁই করে বাস চলে, তখন বেশ ভয় করে। মনে হয়, এই বুঝি চাপা দিল। বুকটা ধুকপুক ধুকপুক করে। সেই বিবেচনায় প্রধান সড়কে বাসের ফাঁকে ফাঁকে রিকশা চলা যে ঝুঁকিপূর্ণ—এটি অস্বীকার করার উপায় নেই। এই প্রসঙ্গে একদিনের কথা বলি। আজিমপুর থেকে যাচ্ছিলাম শান্তিনগর। দোয়েল চত্বর আসতেই আমার রিকশা ঘুরিয়ে দেওয়া হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের পাশের রাস্তায়। যদিও চেয়ে চেয়ে দেখলাম, কিছু রিকশা ও গাড়িকে আটকানো হলো না। চলে গেল আমার জন্য ‘নিষিদ্ধ’ পথেই। কিন্তু কার্জন হলের রাস্তাতেও লাভ হলো না, কিছু দূর গিয়েই দেখি রাস্তা বাঁশ দিয়ে আটকানো। রিকশাচালক রিকশা ঘুরিয়ে গেলেন শাহবাগের দিকে। সেখানে মোড়ে নেমে এক ট্রাফিক পুলিশকে জিজ্ঞেস করলাম হুট করে দোয়েল চত্বরে আটকে দেওয়ার হেতু। তিনি সাফ জানালেন, যান নিয়ন্ত্রণের জন্য এটি করতে হয়। আমাকে বললেন শাহবাগ মোড় থেকে বাসে করে যেতে। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে বাসের জন্য দাঁড়ানোর বেশ কিছুক্ষণ পর বাস এল, তবে তাতে এত যাত্রীর ভিড়ে নিজের রোগাপটকা শরীর নিয়ে ওঠার সাহস হলো না। আবার খুঁজলাম রিকশা। চালক এবার ভাড়ায় আকাশ ছুঁতে চাইলেন, আমি তাঁকে জমিনে নামানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলাম। অগত্যা আমার মানিব্যাগ যথেষ্ট পরিমাণে হালকা হয়ে আমার মন ভারী করে দিল।এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতা বয়ানের কারণ আছে। ঢাকা শহরে প্রায় সময়ই বিভিন্ন রাস্তায় রিকশা চলাচল হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর সঠিক কারণও জানা যায় না। যদি সেই রাস্তায় রিকশার চলাচল বন্ধ করাই হবে, তবে মাঝে মাঝে চালু করা কেন? ভেবেচিন্তে একটি নিয়ম তৈরি করা হলে, তা ভাঙার দরকার কী? যদি ওই রাস্তায় রিকশা চালানোয় সমস্যা সৃষ্টি হয়, তবে একেবারে বন্ধ করে দিলেই হয়। সে ক্ষেত্রে যাত্রীদের জানাবোঝাও স্পষ্ট থাকে, ফলে ‘শাশ্বত’ আইন ভাঙতে তিনি উৎসাহীও হবেন না। কিন্তু কর্তৃপক্ষই যদি নিয়মের বরখেলাপ করে, তখন?

 

সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো দুর্নীতি। প্রতিদিন একই রাস্তা দিয়ে আমাকে কর্মক্ষেত্রে যেতে হয়। একটি নির্দিষ্ট মোড়ের পর রিকশা যাওয়া মানা। কিন্তু সেখানে কর্তব্যরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের সঙ্গে হাত মেলালেই সেই নিষেধাজ্ঞা কর্পূরের মতো উবে যায়। কতবার দূর থেকে দেখলাম—দুই বাঁ-হাত মিলে গেল, আর তিন চাকার মানবচালিত যানও সুন্দর চলে গেল প্রধান সড়কে। এর সমাধান কী হবে? নিয়ম তৈরি করলেন যাঁরা, তাঁরাই যদি এভাবে তা ভঙ্গ করেন, তখন সাধারণ নাগরিকদের সামনে কী দৃষ্টান্ত তৈরি হয়? আদতে এভাবেই সৃষ্টি হয় আইন ভাঙার প্রবণতা।

 

আর্কাইভ

সেপ্টেম্বর ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« আগষ্ট    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০  
নীলফামারী জেলায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। উজানের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে গতকাল বৃহস্পতিবার জেলায় তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার ২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। আজ শুক্রবার সেখানে ৬ সেন্টিমিটার পানি কমলেও সকাল নয়টা পর্যন্ত বিপদ সীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে জেলার ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাঁপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, গয়াবাড়ি ও জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা ইউনিয়নের তিস্তা নদীবেষ্টিত প্রায় ১৫টি চরাঞ্চল গ্রামের ১০ হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্রমতে, লালমনিরহাট জেলার দোয়ানীতে অবস্থিত তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে গতকাল তিস্তা নদীর পানি সকাল থেকে বৃদ্ধি পেয়ে রাতে বিপদ সীমার ২৮ সেন্টিমিটার ওপরে ওঠে। আজ পানি কিছুটা কমলেও সকাল ছয়টায় বিপদ সীমার ২৪ সেন্টিমিটার এবং সকাল নয়টায় বিপদ সীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ওই পয়েন্টে তিস্তা নদীর বিপদ সীমা ৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার। আজ সকাল নয়টায় পানি প্রবাহিত হচ্ছিল ৫২ দশমিক ৮২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে। সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, তিস্তা নদীর বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। পানি আরও বৃদ্ধির আশঙ্কায় অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাচ্ছেন। এদিকে অবিরাম বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত বুড়ি তিস্তা, দেওনাই, চাড়ালকাটা, ধাইজান, খড়খড়িয়া যমুনেস্বরীসহ সব নদ–নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলাম বলেন, গতকাল সকাল থেকে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। রাতে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে বিপদ সীমার ২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। আজ সকাল নয়টায় ৬ সেন্টিমিটার কমলেও বিপদ সীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তিস্তা ব্যারেজের সব কটি (৪৪টি) জলকপাট খুলে রেখে সব কর্মকর্তা–কর্মচারীকে সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের দুর্বল স্থানগুলো শক্তিশালীকরণে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো সমস্যা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।