প্রচ্ছদ

রেমিটেন্সে প্রণোদনায় আমিরাত প্রবাসীদের প্রতিক্রিয়া

Eurobanglanews24.com

সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এক কোটিরও বেশি অভিবাসী বাংলাদেশির পাঠানো রেমিটেন্সের আয় দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে গত অর্থবছরে প্রবাসী আয় বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৬৪২ কোটি ডলার।

 

সদ্য সমাপ্ত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রবাসীরা যে পরিমাণ অর্থ পাঠিয়েছেন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে এত পরিমাণ প্রবাসী আয় আগে কখনো আসেনি। বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ ১০ রেমিটেন্স প্রেরণকারী দেশের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের অবস্থান।

 

এবারের বাজেটে সরকার প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের ওপর ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে যা আমিরাতসহ প্রবাসে থাকা অভিবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে উচ্ছ্বাস এনেছে। জুলাই নাগাদ তা বাস্তবায়িত হলে প্রবাসীরা বৈধ চ্যানেলে দেশে টাকা পাঠালে প্রতি এক হাজার টাকায় ২০ টাকা করে অতিরিক্ত অর্থ মুনাফা বা প্রণোদনা হিসেবে পাবেন। এজন্য এবারের বাজেটে তিন হাজার ষাট কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

 

আবুধাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি অ্যাডমিনিস্ট্রেটর বাংলাদেশি বেলায়েত হোসেন হিরো বলেন, “রেমিটেন্সের ওপর সরকারি প্রণোদনা প্রবাসীদের জন্য একটি মাইলফলক। তা রেমিটেন্স প্রবাহকে দারুণ উৎসাহিত করবে।”

 

আবুধাবি প্রবাসী সংগঠক এস কে আলাদীন বলেন, “প্রবাসীরা উদয়স্ত পরিশ্রম করে রেমিটেন্সের যোগান দেন। এদের পাশে দাঁড়াতে বর্তমান প্রবাসবান্ধব সরকার রেমিটেন্স যোদ্ধাদের প্রণোদনা, স্বাস্থ্য বীমাসহ নানা সুযোগ সুবিধা দিচ্ছেন যার জন্য সরকারকে অভিনন্দন। আমরা একই সঙ্গে প্রবাসী ভাইদের প্রতি অনুরোধ রাখছি হুন্ডি বা অবৈধ পথে টাকা না পাঠিয়ে বৈধ চ্যানেলে টাকা পাঠান। তাতে তাদের পাঠানো রেমিটেন্স বাংলাদেশকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাবে।”

 

 

আমিরুল হাসান

 

সেন্টার ফর এনআরবির দুবাই সম্মেলনে এসে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মশিউর রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রী রেমিটেন্স ছাড়াও প্রবাসীদের বিভিন্নভাবে প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়ে সহানুভূতিশীল রয়েছেন। যার মধ্যে রয়েছে মূলত বিনা ফিতে রেমিটেন্স প্রেরণ সুবিধা, প্রবাসীদের ও তাদের পরিবার পরিজনদের জন্য স্বাস্থ্য বীমা চালু, প্রবাসীদেরকে পেনশান স্কিমের আওতায় আনা এবং প্রবাসীদের জন্য প্রাইজবন্ড চালু। এছাড়া সরকারের রয়েছে প্রবাসীদের জন্য অভিবাসন ব্যয় কমানো, কর্মীদের দক্ষতা বাড়াতে নানা প্রবাসবান্ধব উদ্যোগ।

সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ২০১৭ সালে ১ হাজার ২২৫ কোটি টাকা এবং ২০১৮ সালে বারশ কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক রেমিটেন্স দেশে গেছে দেশটিতে বাংলাদেশের একমাত্র  তফশীলি ব্যাংক জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে। জনতা ব্যাংক আরব আমিরাত অপারেশনের প্রধান ও মহাব্যবস্থাপক আমিরুল হাসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের কাছে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে জানান, জুলাই ২০১৮ থেকে জুন ২০১৯ অর্থবছরে এই রেমিটেন্সের পরিমাণ চৌদ্দশ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। প্রতি বছর জনতা ব্যাংক আমিরাত শাখা সরকারকে গড়ে ৫০ কোটি টাকার নিট মুনাফা দিচ্ছে।

 

রেমিটেন্স সৈনিকদের উৎসাহিত করতে প্রস্তাবিত প্রণোদনার দ্রুত বাস্তবায়ন এবং হুন্ডি নিয়ন্ত্রনে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া গেলে এই রেমিটেন্স বহুগুণে বাড়বে বলেও জনতা ব্যাংক আরব আমিরাতের এ প্রধান নির্বাহী মন্তব্য করেছেন।

 

দুবাই প্রবাসী গণমাধ্যমকর্মী ও এনটিভির ক্যামেরাপারসন মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দীন শিকদার বলেন, “ইতোমধ্যে সরকার ঘোষিত বাজেটে প্রবাসীদেরকে তাদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর ২ শতাংশ হারে প্রণোদনার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। আমরা বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা পাঠালে এ সুবিধা পাবো। আমরা সবাই যেন বৈধ চ্যানেলে টাকা পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করি।”

 

আবুধাবি-প্রবাসী হোটেল এক্সিকিউটিভ মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমাদের প্রবাসীদের সবাইকে অনেক বঞ্চনার শিকার হতে হয়েছে। রেমিটেন্সের ওপর ২ শতাংশ প্রণোদনা ঘোষণার মাধ্যমে সে বঞ্চনা হতে আমরা কিছুটা মুক্তি পেতে যাচ্ছি। আসুন সবাই মিলে হুন্ডিকে না বলি এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা পাঠাই।”

 

আর্কাইভ

জুলাই ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« জুন    
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১