প্রচ্ছদ

ফেঞ্চুগঞ্জ বেদেপল্লী, অনিশ্চয়তায় দিনযাপন

Eurobanglanews24.com

বেদে বা বাইদ্যা। এরা আদিকাল থেকে ভাসমান ভবঘুরে জীবন যাপন করে। জেলায় জেলায় ঘুরে অস্থায়ী আবাস গাড়ে। ছোট্ট ছোট খুপড়ি ঘরের মত জায়গায় থাকা খাওয়া। ঝাড়ফুক দিয়েই উপার্জন করেই ভাত জুটে তাদের। আর ভাল খাবার ও পোশাক, প্রায় স্বপ্ন তাদের জন্য।

 

অভাব অনটন ছাড়াও আছে স্বাস্থ্য ঝুকি। অস্থায়ী পল্লীতে এদের না আছে স্বাস্থসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা না আছে আধুনিক স্বাস্থ্য জ্ঞান। ছোড় বড় সবাই নদীর পারে আলগা দেওয়া রিং টয়লেট ব্যবহার করে। টয়লেট শেষে হাত পরিস্কার করার প্রশ্নে জানা যায়, আগের রোজগার নাই সাবান কেনাই দায়। এ মন্তব্যে বুঝাই যায় তাদের দিনপাত নিদারুণ যাচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ছোট ছোট খুপড়িতে একাধিক লোকের থাকা খাওয়া। ঘিঞ্জি পরিবেশে বড় হচ্ছে শিশুরা। তাদের শরীরে পুষ্টিহীনতা স্পষ্ট। এখানে ১১টি বেদে পরিবার আবাস গড়েছেন। কিন্তু স্থানীয়ভাবে পাচ্ছেন না জরুরি সহযোগীতা। ভবঘুরে, অস্থায়ী বেদে বাচ্চাদের স্থানীয় স্কুল ভর্তি নিতে চায় না। কিন্তু কয়েকজনকে ভর্তি করা গেছে বলে জানান, বেদে সর্দার জজ মিয়া।

 

এখানকার মহিলারা জানান, আমাদের কোন রুটি রুজির ব্যবস্থা নাই। আগের মত ঝাড় ফুক, শিঙ্গা লাগানো মানুষ বিশ্বাস করে না। তাবিজ মাদুলি ও বিক্রি হয় না। যে কারণে প্রায় কষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের। সেই সাথে রয়েছে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা।

 

এদের কারো বাড়ি সুনামগঞ্জ কারো বাড়ি হবিগঞ্জ হওয়ায় এখানে তাদের এনআইডি দিয়ে পাচ্ছেন না কোন সরকারি সাহায্য। কোন কোন পরিচিত নেতার মাধ্যমে হঠাৎ কিছু সাহায্য পেলেও তা অপ্রতুল বলে জানান তারা।

 

মহিলারা জানান, আমরা সাপুড়ে নয় সাপ ধরিও না। খেলা দেখিয়ে রুজি করি। জাতগত ভাবেই আমরা বেদে বা বাইদ্যা। ঝাড় ফুক তাবিজ কবজ ইত্যাদি দিয়েই আমরা ভাত যোগাই। কিন্তু আধুনিক যুগের সাথে আমরা অচল হয়ে যাচ্ছি।

 

তারা আরো জানান, সমাজের মানুষ আমাদের এড়িয়ে চলে। তাই আমরা মানসিক ভাবে হীনমন্যতায় ভূগে এর প্রভাব পড়েছে বাচ্চাদের উপর।

 

বেদে সর্দারসহ তারা দাবি তুলে বলেন, স্বাভাবিক সমাজে আমাদের সুযোগ করে কাজ করার জায়গা দিলে তারা দুবেলা খেয়ে বেঁচে থাকতে পারবেন। এছাড়া এখানে বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেটের ঘাটতি দেখা যায়।

 

এ ব্যাপারে আলাপ করলে ফেঞ্চুগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাজী বদরুদ্দোজা সিলেটভিউকে বলেন, এই জায়গাটা উপজেলা পরিষদের ওখানে পরিষদের অনুমতি ছাড়া টিউবওয়েল দেওয়া যাবে না। তবে ইউনিয়ন থেকে তাদেরকে স্যনেটারি টয়লেট দেওয়ার ব্যবস্থা করব।

 

আর্কাইভ

জুলাই ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« জুন    
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১