প্রচ্ছদ

করা হচ্ছে মাইকিং, যাওয়া হচ্ছে বাড়ি

Eurobanglanews24.com

ভোটার তালিকা হালনাগাদের প্রথম ধাপের তথ্য সংগ্রহ করার পর শুরু হয়েছে দ্বিতীয় ধাপের হালনাগাদের কাজ। আর তথ্য সংগ্রহের জন্য ইসির নির্দেশ অনুযায়ী সঠিকভাবে প্রায় প্রতিদিনই মাইকিং করে এই বিষয়ে জনগণকে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

 

মাঠ পর্যায়ে ঘুরে দেখা গেছে, এই কাজে নিয়োজিত তথ্য সংগ্রহকারীরা প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন। ইসির নির্দেশ তারা ঠিকঠাক ভাবেই পালন করছেন। এমনকি খুব সতর্কতার সাথে তথ্য সংগ্রহ করতে দেখা গেছে যেন তথ্যে কোন প্রকার ভুল না হয়।

 

এই বিষয়ে গুলশান থানা নির্বাচন অফিসার শেখ মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘আমার এরিয়াতে আমি ১ তারিখ থেকেই ভোটার তালিকা হালনাগাদের বিষয়ে জনগণকে জানানোর জন্য মাইকিং করিয়েছি। বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের বলেছি যেন তারা সবাইকে এই বিষয়ে অবগত করেন।’

 

তথ্য সংগ্রহের কাজে কতগুলো টিম কাজ করছে- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার এরিয়ায় দুই হাজার লোকের জন্য একজন করে তথ্য সংগ্রহের কাজ করছেন। আবার ৫ জন তথ্য সংগ্রহকারীর জন্য ১ জন করে সুপারভাইজার নিয়োগ করা হয়েছে (ভোটার অনুপাতে) যেন তারা সঠিকভাবে কাজ করতে পারে। এই সুপারভাইজারগণ তথ্য সংগ্রহকারীদের বিভিন্ন বিষয়ে দিক নির্দেশনা দিয়ে থাকেন। এভাবে আমার এখানে প্রায় সাড়ে তিনশ লোক কাজ করছেন তথ্য সগ্রহের জন্য।’

 

বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে কিনা- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি শুরুতেই সকলকে কড়াকড়ি ভাবে নির্দেশনা দিয়েছি যেন তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন। আমি কোন ধরণের অভিযোগ পেলে সাথে সাথে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো। নির্বাচন কমিশন সচিব মোহাম্মদ আলমগীর বলেছেন কোন অনিয়ম করা চলবে না। অনিয়ম হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে।’

 

তিনি আরো বলেন, ‘তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে আসলে সংগ্রহকারীরা কিছু সমস্যারও সন্মুখীন হয়ে থাকেন। যেমন বাড়িতে গিয়ে অনেককেই পাওয়া যায় না। আবার অনেকে দরোজাই খোলেন না ভয়ে। তাই তাদের নাম ও আংশিক ঠিকানা নিয়ে এসে আমরা এলাকার কাউন্সিলরদের দেই। তারা যেন পরিবর্তী সময়ে ওই সকল ভোটারদের তথ্য সংগ্রহ করে পরে আমাদের দিতে পারেন। এছাড়া আমরা এটাও বলেছি যারা এখন তথ্য দিতে পারেননি তারা ছবি তোলার সময় প্রয়োজনীয় কাগজ সাথে আনলে তখন ভোটার হতে পারবেন।’

 

এই বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, ‘বুধবার থেকে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগরীর (ওয়ারী, সুত্রাপুর ও ডেমরা থানা বাদে) নাগরিকদের  তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলবে ২৩ জুলাই পর্যন্ত। তথ্য সংগ্রহকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সংগ্রহ না করলে বা দায়িত্ব অবহেলা করলে আইনে যে শাস্তির বিধান রয়েছে, সে অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

কি ধরনের শাস্তি দেওয়া হতে পারে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আইনে অর্থদণ্ড ও জেল জরিমানা উভয় দণ্ড আছে। তাই আমরা অপরাধের মাত্রা দেখে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো।’

 

তিনি বলেন, ‘প্রথম পর্যায়ে ২৩ এপ্রিল থেকে ১৩৫টি উপজেলায় ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম শুরু হয়। সেখানে এখন পর্যন্ত ২ লাখ ২৫ হাজার ৩০৭ জন নাগরিকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। যা তথ্য সংগ্রহের হার ৬ দশমিক ৪২ শতাংশ।

 

সচিব আরো বলেন, নির্ধারিত সময়ে কেউ ভোটার হতে না পারলেও কোনো সমস্যা নেই। কারণ, সারাবছরই ভোটার হওয়া যায়। সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসে গিয়ে যে কোনো সময় ভোটার হওয়া যাবে।

 

এবার ভোটার তালিকা হালনাগাদে যাদের বয়স ২০০১ সালের ১ জানুয়ারি বা তার আগে, যাদের জন্ম ২০০২ সালের ১ জানুয়ারি বা তার আগে, যাদের জন্ম ২০০৩ সালের ১ জানুয়ারি বা তার আগে এবং যাদের জন্ম ২০০৪ সালের ১ জানুয়ারি বা তার আগের – তাদের তথ্য সংগ্র করা হচ্ছে।

 

ঢাকা মহানগরীর ভোটার হতে চাওয়াকেও কিছু তথ্য প্রদান করতে হয়। এর মধ্যে ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন সনদ, সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলরের দেওয়া নাগরিকত্ব সনদ, জেএসসি, এসএসসি/সমমান পরীক্ষায় পাশের সনদের কপি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) এবং বাড়ি ভাড়া/ হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধের রসিদের কপি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।

 

ঢাকা মহানগরীর যাদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে, তাদেরকে নির্ধারিত দিনে সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রেশন কেন্দ্রে গিয়ে ছবি তুলে ও আঙুলের ছাপ দিয়ে অবশ্যই নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।

 

আর্কাইভ

সেপ্টেম্বর ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« আগষ্ট    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০