প্রচ্ছদ

বলিউডে শাহরুখ খানের ২৭ বছর

Eurobanglanews24.com

অতি-অভিনেতা’ কিংবা ‘অভিনয় জগতের ঈশ্বর’—তাকে আপনি যে কোনো বিশেষণ দিতে পারেন। তিনি যে একদা রাজা, সর্বদাই রাজা! তিনি যে শাহরুখ খান। গত ২৫ জুন, হিন্দি চলচ্চিত্র অঙ্গনে দীর্ঘ ২৭ বছরের গৌরবময় যাত্রা সম্পন্ন করলেন তিনি।

 

বলিউড যাত্রা ও ২৭ বসন্ত

 

শাহরুখ খানে বলিউড অভিষেক হয় ১৯৯২ সালে। ‘দিওয়ানা’ শিরোনামের ওই সিনেমায় রিষি কাপুরের সঙ্গে দ্বিতীয় প্রধান নায়কের চরিত্রে অভিনয় করে তিনি। প্রথম সিনেমাতেই ব্যাপক সুনাম অর্জন করেন। এমনকি সে বছর সেরা উদীয়মান অভিনেতা হিসেবে ‘ফিল্মফেয়ার’ পুরস্কার লাভ করেন। যারা এই সিনেমা দেখেছেন, তাদের হয়তো এখনো মনে মনে আছে ‘বাইক চালানোর’ দৃশ্যটির কথা! ২৭ বছর পর ফের একবার সেই দৃশ্যকেই চোখের সামনে আনলেন কিং খান। বাইক চালিয়ে বলিউড স্মৃতি রোমন্থন করলেন শাহরুখ। এটাই তো খান সাহেবের স্বকীয়তা!

 

শাহরুখ বলেন, ‘আমি সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে চাই ভারতীয় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে আমার ২৭ বছরের জার্নির জন্য। যদিও সময়টা আমার জীবনের অর্ধেক। প্রত্যেকবার আমার ফ্যানেদের আনন্দ দিতে চাই। কখনো পারি, কখনো ব্যর্থ হই। সেই মোটরসাইকেলে পর্দায় এসেছিলাম, তখন থেকে এখনো পর্যন্ত আমার পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ।’

 

‘দিওয়ানা’ দিয়ে শুরু করলেও শাহরুখ খানের প্রধান চরিত্রে প্রথম চলচ্চিত্র ছিল ‘চমৎকার’। অন্যদিকে একই বছর তার তৃতীয় ছবি হিসেবে মুক্তি পায় ‘রাজু বান গায়া জেন্টলম্যান’ ছবিটি, যেখানে তিনি জুহি চাওলার সঙ্গে অভিনয় করেন। ততদিনে বলিউড পাড়ায় তার অভিনয়ের বেশ জোর গুঞ্জন চলছে। তার অভিনয়ে নতুনত্ব যেমন- ঠোট কাঁপানো, আবেগপূর্ণ দৃশ্যে চোখের কম্পন, কথা বলার সময় বিশেষ ভঙ্গীতে গলার স্বর পরিবর্তন, সবই বড় পর্দায় তাকে নিয়ে যেত গতানুগতিক ধারার বাইরে।

 

 

‘দিওয়ানা’ সিনেমার একটি দৃশ্যে শাহরুখ

 

 

‘ডর’ এবং ‘বাজিগর’, এরপর…

 

শাহরুখ খানের ফ্যান ক্লাব গঠন শুরু হয় ১৯৯২ সাল থেকেই। স্বকীয়তার কারণে অল্পতেই অসংখ্য ভক্ত হয়ে যায় তার। একজন চমৎকার অভিনেতা হিসেবে শাহরুখ নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন ১৯৯৩ সালে। ওই বছরই তিনি ‘ডর’ এবং ‘বাজিগর’ এর মতো বক্স অফিস হিট করা ছবি করেছেন। ‘এন্টি হিরো’ হিসেবে কাজ করলেও তিনি অন্যান্যদের চেয়ে বেশি প্রশংসা পেয়েছিলেন!

 

‘ডর’ এর জন্য তিনি সেরা ‘ভিলেন’ এর নমিনেশন পান ফিল্মফেয়ারে। তবে বাজিগরে তার অসাধারণ অভিনয় তাকে এনে দেয় ক্যারিয়ারের প্রথম সেরা অভিনেতা হিসেবে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার। ‘দীপা সাহির’ সাথে ‘মায়া মেমসাব’ ছবিতে একটি বিতর্কিত দৃশ্যে অভিনয়ের জন্য একই বছর অনেক সমালোচনাও শুনতে হয় খানকে। ১৯৯৪ সালে তিনি ‘আনজাম’ ছবিতে আরো একবার এন্টি হিরো হিসেবে আবির্ভূত হন এবং ফিল্মফেয়ার পুরস্কার জেতেন।

 

এরপর কী হল? শাহরুখ চাইলে দেশের সেরা ‘ভিলেন’ হতে পারতেন। কিন্তু তিনি সেটা চাননি। প্রেমিক পুরুষ হতে চেয়েছিলেন। হয়েছেনও, নিজ গুণে, নিজের অক্লান্ত পরিশ্রমে। ‘কাভি হা কাভি না’ ছবিতে প্রেমিকের চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের রোমান্টিকতার পরিচয় দেন বলিউডে। ১৯৯৫ সালে রাকেশ রোশানের পরিচালিত ‘করন অর্জুন’ সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। বলা যায় এই ছবিতেই কপাল খুলেছে তার। সে বছরই তার অভিনীত আরেকটি সিনেমা মুক্তি পায়, আদিত্য চোপড়া পরিচালিত ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’। ছবিটিতে শাহরুখ খান অভিনয় করেন ‘রাজ’ আর কাজল অভিনয় করেন ‘সিমরান’ চরিত্রে। মুক্তি পাবার সঙ্গে সঙ্গেই ছবিটি বক্স অফিস মাত করে ১২২ কোটি ভারতীয় রুপি আয় করে ছবিটি। সমালোচকদের প্রশংসার এতটাই গাঢ় ছিল যা বলার অপেক্ষা রাখে না।

বিনোদন

আর্কাইভ

অক্টোবর ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« সেপ্টেম্বর    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১