প্রচ্ছদ

আও করার কাইও নাই বাহে!

Eurobanglanews24.com

দেশে সরকার হয় এমপি হয়। নয়া নয়া রাজা হয়। অবৈধ বালুমহালের মালিক বদল হয়, হাট-ঘাটের নয়া ইজারাদার হয়, স্কুল-কলেজ কমিটির সভাপতি বদলায়, নয়া নয়া দেওয়ানি-মাতব্বর হয় আর জনগণের ওপর নিত্যনতুন জুলুম কায়েম হয়। কিন্তু ব্রহ্মপুত্রের বাণ্ডালের চরের মমেনা বেটির বেটি-জামাই আর ফেরে না, বেটি-নাতিপুতি নিয়া ঘাটে অপেক্ষার পালা শেষ হয়। বাঁশপাতা চরের কৃষক বাদশা মিয়ার চিলমারীর হাটে ২ মণ পাট দেড় মণ হয় ঠিকই। হাট খাজনা, ঘাট খাজনা বছর বছর বাড়তেই থাকে। কুড়িগ্রাম-রংপুর-লালমনিরহাটের রাস্তার মোড়ে মোড়ে অটো-রিকশা-জেএস এর টোল পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও সমিতিগুলোকে দিতে দিতে জনগণ অস্থির। বুকের বেদনা বুকে বলক দিয়া উঠে বুকে নিভে যায়।

 

ব্রহ্মপুত্রের ডান তীর ধরে কাইম এলাকায় বিশাল বিশাল বালুর পাহাড়। রাস্তায় ধুলা উড়িয়ে সেই বালু শত শত ট্রাকে জেলায় জেলায় চলে যায়, ড্রেজার মেশিনের ঘড় ঘড় শব্দে চর ভেঙে মুহূর্তে নাই হয়ে যায়, কৃষক জমি হারায়, মাছ-কাছিম-পাখি আবাস হারায়। এই লুটপাটে জড়িত এমপি প্রার্থীদের ভাই-ভাস্তে, কখনো এমপি নিজে। ২০০৯ সালের এমপি তো নির্বাচনে জিতে এসেই চিলমারীর ব্যাঙমারা ঘাটের কিনারেই ড্রেজার বসালেন, আর সেই বছরের বর্ষাতেই কয়েক কিলোমিটার এলাকার কয়েকটি গ্রাম নিমেষেই ব্রহ্মপুত্রের পেটে চলে গেল। তারপর শুরু ড্রেজারে বালু তোলার উৎসব। এখন শুধু চিলমারীতেই ৩০টি ড্রেজারে বালু তোলা হয়। হেন পুকুর-নালা নাই বালু দিয়ে ভরাট হচ্ছে না। চিলমারীর বাতাসে এখন শুধু বালু আর বালু। স্বাস্থ্যকর স্থান কুড়িগ্রাম এখন বালুময়। অন্যদিকে তেলের দাম বাড়ুক না বাড়ুক, ছয় মাস অন্তর নৌকা ভাড়া বাড়বেই চিলমারী-রৌমারী রুটে। চিলমারী বন্দর চালু হলে ফেরিতে যাতায়াত করতে পারতেন গরিব মানুষেরা, কিন্তু জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মামলা দিয়ে আটকে রেখেছেন বন্দরের কাজ। হাজার বছর পর জাতিসংঘ এসে যেমন স্বীকার করে মানুষেরও অধিকার আছে, উল্টা দেশের মানুষ বোঝে প্রকৃতির দান নতুন নতুন সরকারগুলো কেড়ে নেয়। এমনকি আগে মানুষ রাস্তায় দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারত, এখন অনুমতি লাগে। গত বছর নভেম্বরে গণকমিটি কুড়িগ্রামে দারিদ্র্যের অভিশাপ নিয়ে সমাবেশ করতে চেয়েছিল, এ বছর কুড়িগ্রামে ফুলবাড়ী দিবস নিয়ে আনু মুহাম্মদকে সভা করতে দেওয়া হয়নি। এত দিনে জনগণ বুঝলেন, সংবিধানে বাক্‌-সভা-সমাবেশের অধিকার নিরঙ্কুশ নহে—আইনের অধীন। আইনের শাসনে ওরা মোদের মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায় আর রংপুরে এরশাদ জনগণের ভোট নিয়া খেলে! কোনো প্রার্থীই ভবিষ্যতের আইনপ্রণেতা হিসেবে আইন নিয়ে আলোচনা করেন না, যেন তাঁরা স্থানীয় সরকারের বড় তরফের প্রতিনিধি ছাড়া কিছু নন।

 

টেলিভিশন-পেপারের লেখা থেকে এলাকাবাসী জেনেছেন, ব্রহ্মপুত্রের বালুতে ছোট ছোট পাথরের মতো যে টুকরাগুলা দেখা যায়, এগুলো খুব মূল্যবান। আর কাচের মতো চিকচিক করে যেগুলো তা দিয়ে নাকি কাচ তৈরি করা যায়। তাঁরা ভাবেন, কাচের কারখানা হলেও তো রুটি রুজির জন্য ঢাকা-চিটাগাং যাওয়া লাগত না বউ-বাচ্চা ফেলে। নদীর কিনারে দাঁড়িয়ে যে আসাম-মেঘালয় রাজ্য দেখা যায়, ফুলবাড়ীর দিকে কোচবিহার; সেখানেও তো মাল রপ্তানি করা যায়। ঢাকা থেকে স্থলপথে ওপাশে রৌমারী পর্যন্ত গ্যাস ও রেললাইন বসিয়ে সাভারের মতো ইপিজেড করে প্রতিবেশী ভারতের তিন রাজ্যে মাল সাপ্লাই দেওয়ার কথা কেউ কল্পনাও করে না। সবাই খালি করিডরের কথা কয়। ভারতের পশ্চিম বাংলা থেকে আসাম বরাবর রাস্তা বানিয়ে বাংলাদেশের কী লাভ—এলাকার মানুষের বুঝে আসে না। গত ১০-১৫ বছরে সবগুলো সংসদ করিডর চেয়েছে, শিল্পায়ন চায়নি। নিন্দুকেরা বলেন, আমাদের অধিকাংশ এমপি কি নিজের দেশের চেয়ে পরের স্বার্থই বেশি ভালোবাসেন?

 

সারা দেশে নাকি গরিব মানুষের সংখ্যা ৩০ ভাগ থেকে ২৪ ভাগ হয়েছে, আর উত্তরে উল্টো ঘটনা ঘটেছে। কুড়িগ্রামে তো ৬৩ দশমিক ৬৭ ভাগ থেকে ৭০ দশমিক ৮৭ ভাগে আর চিলমারীতে ৭৭ ভাগে বাড়তি হয়েছে। এটা সরকারি প্রতিষ্ঠানেরই রিপোর্ট। আর সেই রিপোর্ট সংসদে তুলে ধরার মত যাঁরা, তাঁদের কাছেই ঘেঁষা যায় না। কারণ, এই নেতারা ঢাকা থেকে নির্বাচিত হন। জাতীয় পার্টি না আওয়ামী লীগ; জামায়াত না বিএনপি—কোন দল থেকে সংসদ সদস্য হবেন, তা–ও ঠিক হয় রাজাদের রাজধানীতে। দয়া হলে জনগণকে ভোটটা দিতে দেন, নইলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কেউ একজন হয়ে যান। গতবার জাতীয় পার্টির মরহুম তাজুল চৌধুরী এলাকার লোকজনকে বলেছিলেন, ‘তোমার ভোটত মুই হইচং?’ তার মানে তিনি এলাকার জনগণকে তুচ্ছ–তাচ্ছিল্য করেছেন। আর বামপন্থী নামে কাস্তে-হাতুড়ি-মই মার্কার যাঁরা আছেন, তাঁরা নিজেদের ভোটটাও নিজেদের দেন না মনে হয়। রংপুর বিভাগের বেশ কয়েকটি আসনে বাম গণতান্ত্রিক জোটের ২-৩ জন করে প্রার্থী দাঁড়িয়েছেন। চলতি বছর মাদ্রাসার হুজুররা গ্রামে গ্রামে, চরে চরে চাঁদা উঠিয়েছেন রোহিঙ্গাদের জন্য। কিন্তু মানুষ যখন ট্রেনের জন্য, নদীভাঙন ও বালু তোলা ঠেকানোর জন্য আন্দোলন করেছেন, কর্মসংস্থানের জন্য ইপিজেড

আর্কাইভ

জুলাই ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« জুন    
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
নীলফামারী জেলায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। উজানের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে গতকাল বৃহস্পতিবার জেলায় তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার ২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। আজ শুক্রবার সেখানে ৬ সেন্টিমিটার পানি কমলেও সকাল নয়টা পর্যন্ত বিপদ সীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে জেলার ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাঁপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, গয়াবাড়ি ও জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা ইউনিয়নের তিস্তা নদীবেষ্টিত প্রায় ১৫টি চরাঞ্চল গ্রামের ১০ হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্রমতে, লালমনিরহাট জেলার দোয়ানীতে অবস্থিত তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে গতকাল তিস্তা নদীর পানি সকাল থেকে বৃদ্ধি পেয়ে রাতে বিপদ সীমার ২৮ সেন্টিমিটার ওপরে ওঠে। আজ পানি কিছুটা কমলেও সকাল ছয়টায় বিপদ সীমার ২৪ সেন্টিমিটার এবং সকাল নয়টায় বিপদ সীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ওই পয়েন্টে তিস্তা নদীর বিপদ সীমা ৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার। আজ সকাল নয়টায় পানি প্রবাহিত হচ্ছিল ৫২ দশমিক ৮২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে। সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, তিস্তা নদীর বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। পানি আরও বৃদ্ধির আশঙ্কায় অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাচ্ছেন। এদিকে অবিরাম বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত বুড়ি তিস্তা, দেওনাই, চাড়ালকাটা, ধাইজান, খড়খড়িয়া যমুনেস্বরীসহ সব নদ–নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলাম বলেন, গতকাল সকাল থেকে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। রাতে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে বিপদ সীমার ২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। আজ সকাল নয়টায় ৬ সেন্টিমিটার কমলেও বিপদ সীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তিস্তা ব্যারেজের সব কটি (৪৪টি) জলকপাট খুলে রেখে সব কর্মকর্তা–কর্মচারীকে সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের দুর্বল স্থানগুলো শক্তিশালীকরণে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো সমস্যা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।