প্রচ্ছদ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা যুদ্ধের বিপদ কমাতে পারে

Eurobanglanews24.com

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আড়াই বছর ধরে ইরানের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে, যা কিনা রাশিয়া, চীন বা উত্তর কোরিয়ার চেয়েও বেশি। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে ছয় জাতির করা পারমাণবিক চুক্তি (জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন বা জেসিপিওএ) থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে, ইরানের সামরিক বাহিনীর একটি শাখাকে (ইসলামি বিপ্লবী গার্ড) একটি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে অভিহিত করেছে, প্রায় এক হাজার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে এবং এমন পদক্ষেপ নিয়েছে, যা অন্য দেশের কাছে ইরানের তেল বিক্রিকে কঠিন করে তুলেছে।

 

মার্কিন নীতি কাজ করছে—এর অর্থ এই যে বেশির ভাগ দেশ (ট্রাম্পের নীতির সঙ্গে একমত নয় সেগুলোসহ) মনে করছে যে ইরানের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্পর্ক বজায় রাখা ভালো। আর এ কারণে তারা ইরান থেকে তেল কিনছে না। এতে ইরানের তেল রপ্তানি মারাত্মকভাবে কমে গেছে এবং এর অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতা এখন বাস্তব এবং ক্রমবর্ধমান। ২০১৮ সালে দেশটির অর্থনীতি প্রায় ৪ শতাংশ সংকুচিত হয়েছিল এবং এই বছর সংকোচনের হার ৬ শতাংশের মতো হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মুদ্রার দাম দ্রুত পড়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন জিনিসের দাম বৃদ্ধি, ওষুধ ও খাবারের অভাব, হিজবুল্লাহর কাছে অর্থের সরবরাহ কমে যাওয়ার এবং বিভিন্ন মিলিশিয়া গোষ্ঠীর এই অঞ্চলের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

 

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের চাপের বিষয়টি স্পষ্ট হলেও তার উদ্দেশ্য স্পষ্ট নয়। ট্রাম্প প্রশাসনের অনেকেই ইরানের শাসন পরিবর্তনকে সমর্থন করে। কিন্তু এই ধরনের কিছু ঘটবে না বলেই মনে হচ্ছে। কেননা, শাহকে উৎখাতের ৪০ বছর পর ইরানের অনন্য রাজনৈতিক-ধর্মীয় ব্যবস্থাকে ও দেশটির মার্কিন চাপকে প্রতিরোধ করার জন্য এবং অর্থনৈতিক সমস্যাগুলো দূর করতে যথেষ্ট শক্তিশালী বলেই মনে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যে অর্থনৈতিক যুদ্ধ শুরু করেছে, তা প্রকৃত যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে। ইরান এটা পরিষ্কার করেছে যে তারা শুধু ব্যথাই সহ্য করতে পারবে তা নয়, তারা শত্রুপক্ষকে ভালোভাবে মোকাবিলাও করতে পারবে। সম্প্রতি ওমান উপসাগরে তেলের ট্যাংকারে এবং সৌদি বিমানবন্দরে ইয়েমেনের হুতি সম্প্রদায়ের ড্রোন হামলার সঙ্গে ইরান প্রায় নিশ্চিতভাবে জড়িত ছিল।

 

ইরানের সরকারও জেসিপিওএ কর্তৃক আরোপিত পারমাণবিক নিষেধাজ্ঞা থেকে ধীরে ধীরে বের হওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মতে, ইরান ধীরে ধীরে পরমাণু জ্বালানির উৎপাদন বাড়াচ্ছে। দেশটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের স্তরকে অস্ত্র উৎপাদনের কাছাকাছি পর্যায়ে আনতে দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ বলে মনে হচ্ছে। একটি ব্যয়বহুল যুদ্ধ এবং একটি শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ছাড়াও তৃতীয় একটি সম্ভাবনা রয়েছে। আর সেটা হচ্ছে, ট্রাম্প তাঁর কূটনীতিকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। তিনি উত্তর কোরিয়ার ব্যাপারে যেভাবে পরিকল্পনা পরিবর্তন করেছেন, একই কাজ যদি তিনি ইরানের সঙ্গেও করতে পারেন।

 

ট্রাম্প প্রশাসনের জেসিপিওএর সমালোচনা হয়তো সঠিক ছিল। ওই চুক্তিতে বলা হয়, ইরান ৩ দশমিক ৫০ শতাংশ ইউরেনিয়াম আহরণ করতে পারবে। চুক্তির আগে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ২০ শতাংশে পৌঁছে গিয়েছিল। তবে ২০ শতাংশ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণকে পারমাণবিক শক্তি উৎপাদনে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি বলে বিবেচনা করা হয়। ট্রাম্প প্রশাসনের মতে, এটা একটা দুর্বল চুক্তি। এর মধ্য দিয়ে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা একটুও কমেনি এবং ব্যাপক পরমাণু অস্ত্র তৈরির সুযোগ রাখা হয়েছে। কিন্তু এই যুক্তি যুক্তরাষ্ট্রকে জেসিপিওএ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ন্যায্যতা দেয় না। তারা এ জন্য ইরানের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা করতে পারে।

 

সেই সুযোগ এখনো বিদ্যমান। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতা করার জন্য জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সাম্প্রতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে, তারপরও এ ব্যাপারে উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যেই কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই ইরান সরকারের সঙ্গে কথা বলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। ইরান অবশ্য আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে, তবে তাদের মনোভাবের পরিবর্তন ঘটতে পারে, যদি যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ইঙ্গিত দেয়।

 

এ ধরনের আলোচনার সময় এখন হয়েছে। সংশোধিত চুক্তির মাধ্যমে ইরানের পরমাণু তৎপরতাকে সংযত রাখার পাশাপাশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে হয়তো নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে। এর বিনিময়ে ইরানের ওপর থেকে অনেক নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে। সংশোধিত চুক্তি হয়তো ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ককে স্বাভাবিক করবে না। তবে এটি যুদ্ধের এবং ইরানের পরমাণু শক্তিধর হয়ে ওঠার সম্ভাবনাকে নাটকীয়ভাবে হ্রাস করবে।

 

আর্কাইভ

সেপ্টেম্বর ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« আগষ্ট    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০  
নীলফামারী জেলায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। উজানের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে গতকাল বৃহস্পতিবার জেলায় তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার ২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। আজ শুক্রবার সেখানে ৬ সেন্টিমিটার পানি কমলেও সকাল নয়টা পর্যন্ত বিপদ সীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে জেলার ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাঁপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, গয়াবাড়ি ও জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা ইউনিয়নের তিস্তা নদীবেষ্টিত প্রায় ১৫টি চরাঞ্চল গ্রামের ১০ হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্রমতে, লালমনিরহাট জেলার দোয়ানীতে অবস্থিত তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে গতকাল তিস্তা নদীর পানি সকাল থেকে বৃদ্ধি পেয়ে রাতে বিপদ সীমার ২৮ সেন্টিমিটার ওপরে ওঠে। আজ পানি কিছুটা কমলেও সকাল ছয়টায় বিপদ সীমার ২৪ সেন্টিমিটার এবং সকাল নয়টায় বিপদ সীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ওই পয়েন্টে তিস্তা নদীর বিপদ সীমা ৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার। আজ সকাল নয়টায় পানি প্রবাহিত হচ্ছিল ৫২ দশমিক ৮২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে। সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, তিস্তা নদীর বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। পানি আরও বৃদ্ধির আশঙ্কায় অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাচ্ছেন। এদিকে অবিরাম বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত বুড়ি তিস্তা, দেওনাই, চাড়ালকাটা, ধাইজান, খড়খড়িয়া যমুনেস্বরীসহ সব নদ–নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলাম বলেন, গতকাল সকাল থেকে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। রাতে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে বিপদ সীমার ২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। আজ সকাল নয়টায় ৬ সেন্টিমিটার কমলেও বিপদ সীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তিস্তা ব্যারেজের সব কটি (৪৪টি) জলকপাট খুলে রেখে সব কর্মকর্তা–কর্মচারীকে সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের দুর্বল স্থানগুলো শক্তিশালীকরণে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো সমস্যা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।