প্রচ্ছদ

গোকুলে বাড়ছেন তিনি

Eurobanglanews24.com

দ্বিতীয়বারের জন্য প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর নরেন্দ্র মোদির প্রথম দুটি সিদ্ধান্ত খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নতুন দুটি কমিটি গঠন তাঁর প্রথম সিদ্ধান্ত। একটি কমিটি নতুন লগ্নির মাধ্যমে প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার বিষয়টি দেখবে, অন্য কমিটি দেখবে সেই প্রবৃদ্ধির ফলে যাতে দেশে কর্মসংস্থান বাড়ে। এই যে পাঁচটি বছর তিনি রাজত্ব করলেন, তাতে দেখা যাচ্ছে দেশের প্রবৃদ্ধি থমকে গেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তার হার নিম্নগামী। সবচেয়ে বড় কথা, কর্মসংস্থান মারাত্মকভাবে সংকুচিত হয়ে গেছে। এই দুই সমস্যার দিকে তাই তিনি প্রথমেই নজর দিয়েছেন। দুটি কমিটিই একে অন্যের পরিপূরক।

 

লোকসভা ভোটের প্রচারে বিরোধীরা এই দুই সমস্যা বড় করে তুলে ধরেছিল। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল কৃষি ও কৃষকের সমস্যা। কিন্তু দেখা গেল, দেশের মানুষ সমস্যার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে সম্ভাব্য মুশকিল আসানকে। জনতা মনে করেছে, সমস্যা আছে ঠিক কথা। কিন্তু তার সমাধানের জন্য নরেন্দ্র মোদিকেই আরও একবার সুযোগ দেওয়া দরকার। কারণ, তিনিই এই মুহূর্তে যোগ্যতম নেতা। তা ছাড়া তিনি পরীক্ষিত।

 

৫ বছরে ১০ কোটি বেকারকে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মোদি ক্ষমতায় এসেছিলেন। ভোটের আগে এই বিষয়কে বিরোধীরা বড় করে তুলেও ধরেছিল। প্রধানমন্ত্রী তার জবাবে বেকারত্বের অভিযোগ নস্যাৎ করার পাশাপাশি ‘পকৌড়া’ বা তেলেভাজার বিক্রিবাট্টাকেও রোজগার হিসেবে উল্লেখ করে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন। ঠিক ওই সময় কর্মসংস্থান নিয়ে সরকারি রিপোর্ট প্রায় প্রকাশ হয়ে যাচ্ছিল। কোনোরকমে তা চেপে দেওয়া হয়। সেই রিপোর্ট ভোটের ফল বেরোনোর পর প্রকাশ হয়েছে। সরকারের ‘ন্যাশনাল স্যাম্পল সার্ভে অফিস’ বা ‘এনএসএসও’ জানিয়েছে, ২০১৭–১৮ অর্থবছরে দেশে বেকারত্বের হার ৬ দশমিক ১ শতাংশ, যা কিনা গত ৪৫ বছরে সবচেয়ে বেশি। রিপোর্টে বলা হয়েছে, বেকার যুবক–যুবতীদের সংখ্যা ২০১১–১২ থেকে ২০১৭–১৮ সালে দ্বিগুণের বেশি বেড়ে গেছে। ভোটের আগে শেষ তিন মাসের প্রবৃদ্ধির হারও প্রকাশ করা হয়নি। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী, শেষ তিন মাসের প্রবৃদ্ধি কমে হয়েছে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। গত ২০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। সারা বছরের প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ, যা কিনা লক্ষ্যমাত্রার অনেক নিচে। দেশের অর্থসচিব জানিয়েছেন, প্রবৃদ্ধি আরও কমতে পারে।

 

ক্ষমতাসীন হয়ে এই জোড়া সমস্যার সমাধানে মোদির সচেষ্ট হওয়ার মধ্য দিয়ে এটা প্রমাণিত, পাঁচ বছরে এই দুটি ক্ষেত্রেই তিনি নিদারুণ ব্যর্থ। নতুন দুটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত এক অর্থে তাঁর সেই ব্যর্থতারই স্বীকারোক্তি।

 

প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় সিদ্ধান্ত অমিত শাহকে প্রকারান্তরে দ্বিতীয় ক্ষমতাবান করে তোলা। নতুন ওই দুই কমিটি গঠনের পাশাপাশি মোদি তাঁর মন্ত্রিসভার আরও ছয়টি পুরোনো কমিটি পুনর্গঠন করেন। আশ্চর্যের বিষয়, প্রথমবার মন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও প্রতিটি কমিটিতেই রাখা হয়েছে অমিত শাহকে। সে জায়গায় প্রধানমন্ত্রী নিজে আছেন সাত কমিটিতে। অমিত শাহর চেয়ে সিনিয়র মন্ত্রী যাঁরা, বয়স ও অভিজ্ঞতায়, যেমন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন কিংবা পরিবহনমন্ত্রী নিতিন গড়কড়ি কেউই অতগুলো কমিটির সদস্য নন। খুবই সচেতনভাবে মোদি এই গুরুত্ব অমিত শাহকে দিয়েছেন এটা বোঝাতে যে মন্ত্রিসভায় তাঁর পরেই স্থান তাঁরই রাজ্যের ভূমিপুত্রের, যাঁর সঙ্গে তাঁর জুটি সেই গুজরাট থেকে এখনো অবিচ্ছিন্ন।

 

অমিত শাহকে এত গুরুত্বপূর্ণ করে তোলার মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী দেখতে চেয়েছিলেন দলে বিদ্রোহ–জাতীয় কিছু ঘটে কি না। আগামী দিনে ক্ষমতার ভরকেন্দ্রের সেই সম্ভাব্য স্থানবদল যে মসৃণভাবে ঘটে যাবে, সেই ইঙ্গিত কিন্তু পাওয়া যায়নি। বিদায়ী মন্ত্রিসভায় ২ নম্বর জায়গাটা ছিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের। এবার তাঁর বদল ঘটেছে। রাজনাথের হাত থেকে স্বরাষ্ট্র নিয়ে তাঁকে দেওয়া হয় প্রতিরক্ষা। শপথ গ্রহণের দিন ক্রমানুযায়ীও রাজনাথ ছিলেন দ্বিতীয় ব্যক্তি। কিন্তু কমিটি গঠনের আগের দিনেই দেখা গেল অমিত শাহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বৈঠক ডাকলেন। বোঝানো হলো, নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শুধু অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার মধ্যেই নিজেকে আবদ্ধ রাখবেন না। পরের দিন কমিটি গঠন হলো। সব কমিটিতেই তিনি। সে জায়গায় রাজনাথ সিং মাত্র দুটিতে। বিজেপির অন্দর মহলের খবর, কমিটি গঠন দেখেই ক্ষুব্ধ রাজনাথ পদত্যাগের কথা জানিয়ে দেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে সেদিনই সন্ধ্যায় আরও চার কমিটির সদস্য করে রাজনাথের ক্ষোভ প্রশমিত করা হয়। পরের দিন রাজনাথের ডাকা বৈঠকে অমিত শাহ তাঁর বাড়ি যান। সেই খবর ও ছবি কাগজে ছাপা হয়। বোঝানো হয়, রাজনাথকে অসম্মান করা মোদির লক্ষ্য নয়।

 

আর্কাইভ

জুলাই ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« জুন    
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
নীলফামারী জেলায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। উজানের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে গতকাল বৃহস্পতিবার জেলায় তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার ২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। আজ শুক্রবার সেখানে ৬ সেন্টিমিটার পানি কমলেও সকাল নয়টা পর্যন্ত বিপদ সীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে জেলার ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাঁপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, গয়াবাড়ি ও জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা ইউনিয়নের তিস্তা নদীবেষ্টিত প্রায় ১৫টি চরাঞ্চল গ্রামের ১০ হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্রমতে, লালমনিরহাট জেলার দোয়ানীতে অবস্থিত তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে গতকাল তিস্তা নদীর পানি সকাল থেকে বৃদ্ধি পেয়ে রাতে বিপদ সীমার ২৮ সেন্টিমিটার ওপরে ওঠে। আজ পানি কিছুটা কমলেও সকাল ছয়টায় বিপদ সীমার ২৪ সেন্টিমিটার এবং সকাল নয়টায় বিপদ সীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ওই পয়েন্টে তিস্তা নদীর বিপদ সীমা ৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার। আজ সকাল নয়টায় পানি প্রবাহিত হচ্ছিল ৫২ দশমিক ৮২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে। সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, তিস্তা নদীর বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। পানি আরও বৃদ্ধির আশঙ্কায় অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাচ্ছেন। এদিকে অবিরাম বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত বুড়ি তিস্তা, দেওনাই, চাড়ালকাটা, ধাইজান, খড়খড়িয়া যমুনেস্বরীসহ সব নদ–নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলাম বলেন, গতকাল সকাল থেকে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। রাতে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে বিপদ সীমার ২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। আজ সকাল নয়টায় ৬ সেন্টিমিটার কমলেও বিপদ সীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তিস্তা ব্যারেজের সব কটি (৪৪টি) জলকপাট খুলে রেখে সব কর্মকর্তা–কর্মচারীকে সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের দুর্বল স্থানগুলো শক্তিশালীকরণে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো সমস্যা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।