প্রচ্ছদ

ভারতে ভিলেনদের হিরো হয়ে ওঠা

Eurobanglanews24.com

ভারতের সদ্য সমাপ্ত নির্বাচন নিয়ে বিস্তর বিশ্লেষণ হয়েছে। আরও হবে। ভোটারদের ‘মন জয়’-এর কারণ হিসেবে বিজেপি ও মোদি জির অনেক ইতিবাচক কাজের বিবরণ জানাচ্ছেন আলোচকেরা। তবে একটি বিষয় আলোচনায় বেশি আসেনি। বিজেপি জোটের মন্ত্রিসভায় বিভিন্ন ধরনের ফৌজদারি অপরাধে বিচারাধীন আসামির সংখ্যাও গতবারের চেয়ে বেশ বেড়েছে এবার। মোদির প্রথম মন্ত্রিসভায় ‘আসামি’ ছিল ৩১ শতাংশ। এবার হয়েছে ৩৯ শতাংশ। আসামি হলেও এঁরা ভোটেই ‘জিতে এসেছেন’; সেটা আমাদের খেয়াল রাখতে হবে!

 

ভারতের গবেষণা সংস্থা এডিআর জানাচ্ছে, ৩০ মে ভারতে নতুন যে মন্ত্রিসভা হলো, তার ৫৭ সদস্যের ২২ জনের বিরুদ্ধেই ফৌজদারি মামলা আছে। নির্বাচন কমিশনে দেওয়া হলফনামাতেই সেটা উল্লেখ করেছিলেন এই মন্ত্রীরা। এর মধ্যে ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগের ধরন ‘গুরুতর’। অর্থাৎ অনেকের বিরুদ্ধে খুন, ধর্ষণ ইত্যাদির মামলাও আছে। এ রকম সাতটি পর্যন্ত মামলা আছে এমন ব্যক্তিও মন্ত্রী হয়েছেন। এর মধ্যে ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর বিরুদ্ধে রয়েছে চারটি মামলা। অথচ তাঁকে নিয়েই এই মুহূর্তে সমগ্র ভারত উচ্ছ্বসিত।

 

এবারের নির্বাচনের পর নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হলেও বিশ্লেষক ও প্রচারমাধ্যমে ক্ষণে ক্ষণে উচ্চারিত হচ্ছে অমিত শাহর নাম। তাঁকে নিয়ে বই প্রকাশের ঘোষণা এসেছে। সিনেমা তৈরির উদ্যোগ চলছে। বলা হচ্ছে, রাজনীতিতে অমিত শাহর আক্রমণাত্মক ভঙ্গি ও বিরোধীদের দলনে নির্মমতাই বিজেপির ভূমিধস বিজয়ের মূল জাদু। অমিতই মূল ‘নায়ক’।

 

গুজরাটের অমিত শাহ যখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জিন্নাহ ও গান্ধীর পরিবারের সূত্রে উপমহাদেশের ইতিহাসে গুজরাটের বিশেষ খ্যাতি আছে। সেই গুজরাট এখন আরও গর্বিত মোদি ও অমিত শাহকে নিয়ে। এই বিস্ময় ইতিমধ্যে ভারতীয়দের কেটে গেছে যে, গান্ধীর গুজরাট থেকেই অমিত শাহ উঠে এসেছেন।

 

গান্ধীর জগৎখ্যাত উক্তি ছিল, ‘চোখের বদলে চোখনীতি গোটা বিশ্বকে অন্ধ করে দেবে।’ অমিত শাহর সামনে অবশ্য এ মুহূর্তে উৎপাটনযোগ্য আর কিছু বাকি নেই। তিনি বহু কিছু ছিলেন। বহু কিছু হলেন। তার মধ্যে গুজরাট দাবা ফেডারেশনের একসময়কার সভাপতিও ছিলেন। অসাধারণ এই ‘দাবাড়ু’ ধর্মনিরপেক্ষ প্রতিপক্ষদের তো বটেই খোদ বিজেপির আদভানি, সুষমা স্বরাজ, মুরলি মনোহর যোশিদেরই নিঃস্ব করে রাজনীতি থেকে বিদায় দিয়েছেন।

 

ভারতজুড়ে বহুল আলোচিত ‘সোহরাবুদ্দীন মার্ডার কেস’ দিয়ে ফৌজদারি মামলার জগতে অমিত শাহর অভিষেক হয়। সাধারণ মানুষ তো বটেই, তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশ কর্মকর্তাদেরই আনুষ্ঠানিক অভিযোগের বিপুল দৃষ্টান্ত আছে। গুজরাটের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে যাঁরাই তাঁর কথা শোনেনি, তাদেরই খারাপভাবে বিদায় নিতে হয়েছে।

 

২০১২ সালে নির্বাচনী হলফনামায় স্ত্রীসহ অমিত শাহর সম্পদ দেখানো হয়েছিল ১২ কোটি রুপির। এবার সেটা দেখানো হয় ৩৯ কোটি। বিজেপির এক মেয়াদেই শাহ পরিবারের সম্পদের এরূপ বৃদ্ধি এ মুহূর্তে ভারতীয় রাজনীতিতে মোটেই কোনো ইস্যু নয়। বিজেপির সভাপতি হওয়ার পথে কোনো ধরনের অপরাধের অভিযোগ তাঁকে থামাতে পারেনি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তাঁর আবির্ভাব তাই সমগ্র ভারতের জন্যই বিশেষ বার্তাবহ।

 

সাত মামলার আসামি পেলেন দুই মন্ত্রণালয়

ভারতে নতুন মন্ত্রিসভার অভিষেকের ৯ দিনের মাথায় মোদি শ্রীলঙ্কায় গেছেন। সেখানে তিনি জঙ্গি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত খ্রিষ্টানদের সহানুভূতি জানিয়েছেন। কিন্তু ভারতে তাঁর মন্ত্রিসভা নিয়ে খ্রিষ্টানরা চরম হতাশ ও ক্ষুব্ধ। কারণ তাতে স্থান দেওয়া হয়েছে প্রতাপ চন্দ্র সারাঙ্গীকে।

 

ফৌজদারি মামলার আসামি মন্ত্রীদের মধ্যে প্রতাপ চন্দ্র এ মুহূর্তে শুধু ভারত নয়, বৈশ্বিক মনোযোগ কেড়েছেন। বিজেপি প্রভাবিত মিডিয়াগুলো ওডিশার এই হিন্দুত্ববাদী সংগঠককে সাদাসিধা একজন মানুষ হিসেবে তুলে ধরতে সচেষ্ট। ঢাকার প্রচারজগতেও তার ছাপ পড়েছে। এটা সত্য, সাধারণ পোশাক পরেন তিনি এবং থাকেন কুঁড়েঘরের মতো একটা বাড়িতে। তাঁর ব্যাংক ব্যালান্সও সামান্য। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এসব অতি বিরল এখন। কিন্তু প্রতাপ চন্দ্রের ক্ষেত্রে এসবকে বিভ্রান্তিকর প্রচ্ছদ বলেও গণ্য করা যায়।

 

৬৪ বছর বয়সী সাদাসিধা মানুষটি সাতটি ফৌজদারি মামলার আসামি। মারামারি, খুনোখুনি, অন্য ধর্মের মানুষদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ উসকে দেওয়া ইত্যাদি নানান অভিযোগ ‘জনপ্রিয়’ এই নেতার বিরুদ্ধে। আরএসএস-বিজেপি পরিবারের সবচেয়ে আক্রমণাত্মক গণসংগঠন বজরং দল ওডিশার সভাপতি তিনি। এই বজরং দলের কর্মীরাই ১৯৯৯-এ ওডিশায় অস্ট্রেলিয়ার খ্রিষ্টান পুরোহিত গ্রাহাম স্টেইনকে দুই ছেলেসহ ঘুমন্ত অবস্থায় পুড়িয়ে হত্যা করেন। প্রতাপ এখনো এই হত্যার মাঝে কোনো সমস্যা খুঁজে পান না।

 

২০০২ সালে ‘বজরং দল’, ‘দুর্গাবাহিনী’ এবং ‘বিশ্ব হিন্দু পরিষদ’ মিলে ওডিশার বিধানসভা ভবনে যে হামলা করে, তাতেও প্রতাপ নেতৃত্বে ছিলেন বলে কথিত রয়েছে। সে সময় আটকও হন তিনি।

 

 

আর্কাইভ

আগষ্ট ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« জুলাই    
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
নীলফামারী জেলায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। উজানের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে গতকাল বৃহস্পতিবার জেলায় তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার ২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। আজ শুক্রবার সেখানে ৬ সেন্টিমিটার পানি কমলেও সকাল নয়টা পর্যন্ত বিপদ সীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে জেলার ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাঁপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, গয়াবাড়ি ও জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা ইউনিয়নের তিস্তা নদীবেষ্টিত প্রায় ১৫টি চরাঞ্চল গ্রামের ১০ হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্রমতে, লালমনিরহাট জেলার দোয়ানীতে অবস্থিত তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে গতকাল তিস্তা নদীর পানি সকাল থেকে বৃদ্ধি পেয়ে রাতে বিপদ সীমার ২৮ সেন্টিমিটার ওপরে ওঠে। আজ পানি কিছুটা কমলেও সকাল ছয়টায় বিপদ সীমার ২৪ সেন্টিমিটার এবং সকাল নয়টায় বিপদ সীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ওই পয়েন্টে তিস্তা নদীর বিপদ সীমা ৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার। আজ সকাল নয়টায় পানি প্রবাহিত হচ্ছিল ৫২ দশমিক ৮২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে। সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, তিস্তা নদীর বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। পানি আরও বৃদ্ধির আশঙ্কায় অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাচ্ছেন। এদিকে অবিরাম বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত বুড়ি তিস্তা, দেওনাই, চাড়ালকাটা, ধাইজান, খড়খড়িয়া যমুনেস্বরীসহ সব নদ–নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলাম বলেন, গতকাল সকাল থেকে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। রাতে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে বিপদ সীমার ২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। আজ সকাল নয়টায় ৬ সেন্টিমিটার কমলেও বিপদ সীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তিস্তা ব্যারেজের সব কটি (৪৪টি) জলকপাট খুলে রেখে সব কর্মকর্তা–কর্মচারীকে সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের দুর্বল স্থানগুলো শক্তিশালীকরণে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো সমস্যা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।