প্রচ্ছদ

রক্তবালক তৌফিক

Eurobanglanews24.com

‘রক্ত’ মানবদেহের চালিকাশক্তি, যা ছাড়া মানুষ বেঁচে থাকতে পারে না। এই বেঁচে থাকার উপাদানটি অনেক সময় অসুস্থ রোগীর জন্য জরুরি হয়ে ওঠে। রোগীর অভিভাবকরা তখন পাগলের মতো রক্ত খুঁজতে থাকে। কেউ হয়তো নিজ আত্মীয়র মাঝে রক্তে খুঁজে পান, কিন্তু অনেকেই বিপদের সময় রক্ত খুঁজে পায় না। কিন্তু একজন রক্তবালক তৌফিক নিঃস্বার্থে অসুস্থ রোগীদের জন্য রক্ত সংগ্রহ করে যাচ্ছে।

 

পুরো নাম তৌফিক আহমেদ। কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগের চতুর্থ বর্ষে পড়ালেখা করছে। পড়ালেখার পাশাপাশি নিজে রক্ত দিয়ে ও রক্ত সংগ্রহ করে দিয়ে আর্তমানবতার সেবায় কাজ করে যাচ্ছেন। সময়টা ২০১৬ সালের ৭ ডিসেম্বর। বন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে প্রথমবার রক্ত দেয় তৌফিক। সেই থেকে শুরু, এখন পর্যন্ত নিজে রক্ত দিয়েছে ৮ বার। আর রক্ত সংগ্রহ করে দিয়েছে ১২০০ বার। অথচ এই তৌফিক রক্ত সংগ্রহ সংশ্লিষ্ট কোনো সংগঠনের সঙ্গে জড়িত নেই। তবে অনেক সময় বিভিন্ন সংগঠনের সহযোগিতা নিয়ে থাকে সে। নিজের ফোনের টাকা খরচ করে সব সময় রক্ত সংগ্রহের কাজ করতে হয় তাকে।

 

কথায় কথায় তৌফিক বলেন, ‘অনেক দিন ক্লাস চলাকালীন ফোন আসে, তখন শিক্ষকের অনুমতি নিয়ে ফোন রিসিভ করি। ফোনকলের অপর পাশ থেকে কান্নাজড়িত কণ্ঠে রক্ত লাগবে কথাটি ভেসে আসে। তখন আর ঠিক থাকতে পারি না। যতদ্রুত সম্ভব বন্ধু, ক্যাম্পাসের ছোট ভাই, বড় ভাই, বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যদের কাছে ফোন করি। আর দোয়া করি, যাতে রক্তটা ম্যানেজ হয়ে যায়। ম্যানেজ হলেই আনন্দ আর উচ্ছ্বাস নিয়ে ফোনকলে রক্ত ম্যানেজ হয়েছে কথাটি জানিয়ে দেই। সেই সময় মনে হয়, আমি পৃথিবীর সব থেকে সুখী মানুষ।’ এই রক্তবালক তৌফিক ক্যাম্পাসে বেশ জনপ্রিয়। শিক্ষক, সহপাঠী, বড় ভাই কিংবা ছোট ভাই সবার কাছে তৌফিক ভিন্ন একটি ছেলে।

 

তবে রক্তবালক তৌফিক একাই কাজটি করতে সমর্থ হয় না। এ জন্য কয়েকজন মানুষ তাকে সর্বদা সহযোগিতা করে থাকে। তার মধ্যে রয়েছে- কুষ্টিয়ার বাঁধন-এর আহ্বায়ক শাহিন, মেহেরপুরের রাজ আহমেদ তুহিন, ক্যাম্পাসের রাকিবুল ইসলাম রাকিব, কুষ্টিয়ার রেটার‌্যাক্ট ক্লাবের সভাপতি তুষার রতন ও ক্যাম্পাসের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন তারুণ্য ও রক্তিমার সদস্যরা। এদের সহযোগিতা আর তৌফিকের একক প্রচেষ্টায় ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, মাগুরা, রাজশাহী ও গাইবান্ধায় অসুস্থ রোগীদের জন্য রক্ত সংগ্রহ করে যাচ্ছে তৌফিক। এ পথচলা অব্যাহত থাকবে কি না এ বিষয়ে জানতে চাইলে তৌফিক বলে, ‘রক্ত দিন জীবন বাঁচান’- স্লোগানকে সামনে রেখে একটি ওয়েবসাইট চালুর ইচ্ছা আছে। যেখানে সমগ্র দেশের রক্ত দিতে আগ্রহীদের তালিকা থাকবে। আর যারা রক্ত দিয়ে অসুস্থ রোগীকে সহযোগিতা করবে, তাদের উৎসাহিত করার জন্য বিভিন্ন পুরস্কারের ব্যবস্থা থাকবে। এ ছাড়া রক্তবালক তৌফিক একটি বিষয় জোর দিয়ে বলে, ‘স্বার্থযুক্ত এই পৃথিবীতে আমরা একটু সহযোগিতার মনমানসিকতা তৈরি করতে পারলে পৃথিবীটা হবে সুন্দর।’

 

রক্তবালক তৌফিকের বিষয়ে তার সহপাঠী জি কে সাদিক বলেন, ‘তৌফিক হচ্ছে রক্তবালক। যে অনেক সময় নিজের খাওয়ার টাকা দিয়ে অন্যের রক্ত সংগ্রহ ও রক্তের ব্যাগ কিনে দিয়ে থাকে। যা বন্ধু হিসেবে আমাকে অনেক বেশি আলোড়িত করে।’ এরকম কিছু মানুষের জন্য পৃথিবীটা আজও সুন্দর আছে। সর্বোপরি তার সহপাঠী ও শুভাকাক্সক্ষীদের প্রত্যাশা তৌফিক তার ভাবনা আর সম্ভাবনার সর্বোচ্চ চূড়ায় আসীন হোক।

 

আর্কাইভ

জুন ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« মে    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০