প্রচ্ছদ

বহু ভূমিকম্প সয়ে হিমালয়ের নিসর্গকে সঙ্গী করে ৮০০ বছর ধরে দাঁড়িয়ে আছে চিকিৎসকদের মন্দির

Eurobanglanews24.com

হিমালয়ের ধৌলাধর পর্বতমালার পটভূমিতে মধ্যযুগীয় বৈজনাথ মন্দির যেন উষ্ণীষের রত্ন | হিমাচল প্রদেশের বৈজনাথ শহরের প্রাণকেন্দ্রে এই মন্দির ইতিহাসের খণ্ডচিত্র | সেইসঙ্গে পুণ্যার্থীদের গন্তব্য হিসেবেও উল্লেখযোগ্য  | এই শৈব মন্দিরে শিব পূজিত হন বৈদ্যনাথ রূপে | বৈদ্যনাথ থেকেই বৈজনাথ | শিব এখানে চিকিৎসকদের আরাধ্য দেবতা | তাই তিনি বৈদ্য অর্থাৎ চিকিৎসকদের নাথ বা দেবতা |

 

বহুদূর থেকে রোগীরা আসেন এই দেবালয়ে সুস্থতার আশায় | ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত এই মন্দির বহু ভূমিকম্পের আঘাত সহ্য করেছে | এই পার্বত্য অঞ্চলের বহু মন্দির ভূমিকম্প ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে | ভৌগোলিক অবস্থানের জন্য কাংড়া উপত্যকা অত্যন্ত সমৃদ্ধ | কারণ কাশ্মীর‚ পঞ্জাব ও তিব্বত থেকে আসা যাওয়া করা বণিকদের কাংড়ায় পা দিতেই হতো | যুগের পর যুগ ধরে এই অঞ্চলে স্থানীয় শাসক ও সমৃদ্ধ শ্রেষ্ঠীরা মন্দির নির্মাণ করেছেন | তবে তার বেশিরভাগই ধূলিসাৎ হয়েছে ভূমিকম্পে | কারণ হিমালয়ের এই পার্বত্য অংশ স্বভাবতই ভূকম্পনপ্রবণ | তবে কেন বৈজনাথ মন্দির তৈরি হয়েছিল তার প্রকৃত ইতিহাস এখনও জানা যায় না |

 

আটশো বছরের প্রাচীন এই মন্দিরে দুটি শিলালিপি আছে | যা পরিচিত ‘ বৈজনাথ প্রশস্তি ‘ বলে | সেখান থেকে জানা যায়‚ দুই ধনী ব্যবসায়ী ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে এই মন্দির নির্মাণ করিয়েছিলেন | আহুকা ও মন্যুকা নামে দুই ব্যবসায়ী ছিলেন পরম শিবভক্ত | শিলালিপি থেকে আরও জানা যায়‚ মন্যুকার পিতার নাম সিদ্ধা | তাঁর মায়ের নাম চিন্না | মণ্যুকার ভাই আহুকা | আহুকার স্ত্রী গুলহা প্রকৃতই গৃহলক্ষ্মী |

 

সারদা ও তকড়ি হরফে রচিত হয়েছিল বৈজনাথ প্রশস্তি | ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর অংশে প্রচলিত ছিল সারদা ভাষা | এর থেকেই বিবর্তিত হয়েছিল আজকের গুরুমুখি ভাষা | তকড়িও প্রাচীন মধ্যযুগীয় হরফ | ১৯৪০ সাল অবধি এই হরফেই লেখা হতো ডোগরি ভাষা | পরে সে স্থান গ্রহণ করে দেবনাগরী | কাংড়ার কাতোচ বংশীয় রাজা সংসারচাঁদ এই মন্দিরের প্রভূত সংস্কার সাধন করেছিলেন | সে তথ্যও জানা যায় দেবালয়ের শিলালিপি থেকে |

 

নাগাড়া ঘরানায় তৈরি এই মন্দির এক বিস্ময় | মন্দিরের শিখর আশি ফিট উঁচু | কেউ বলেন‚ সেখানে ফুল লতাপাতার কারুকাজ করা আছে | আবার কোনও বিশেষজ্ঞ বলেন‚ সেখানে আছে কোনও দুর্বোধ্য লিপি‚ যার পাঠোদ্ধার এখনও সম্ভব হয়নি | গণেশ ও হনুমান-সহ অন্য হিন্দু দেবদেবীদের মূর্তি মন্দিরে খোদিত | পাশাপাশি আছে রামচন্দ্র ও সীতার বিবাহদৃশ্য |

 

শৈব মন্দির হিসেবে এখানে নন্দীর বিগ্রহও আছে | প্রাচীন এই মন্দিরের গায়ে প্রাচীন শ্লোক খোদাই করা আছে | আর্কিওলজিক্যাল সোসাইটি অফ ইন্ডিয়া দ্বারা সংরক্ষিত এই দেবালয় মধ্যযুগীয় হিমাচলি স্থাপত্যের রত্নসম উজ্জ্বল নিদর্শন |

 

আর্কাইভ

সেপ্টেম্বর ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« আগষ্ট    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০