প্রচ্ছদ

সেকালের ঈদ

Eurobanglanews24.com

বাংলার গ্রামাঞ্চলে ধর্মীয় উৎসব হিসেবে দেখলে ঈদের ‘সেকাল’ প্রাচীন নয়, প্রায় অর্বাচীন। তবে ইতিহাসের দিক থেকে দেখলে তা তো প্রাচীন বটেই। ঘোড়ার আগে গাড়ি জোড়ার মতো ব্যাপারও বটে। পূর্ব বাংলার বাঙালি মুসলমান ঐতিহাসিক কারণেই খুব বেশি আগে থেকে সামাজিকভাবে সংহত, সচেতন এবং শিক্ষাদীক্ষা ও অর্থবিত্তে সম্পন্ন হতে পারেনি। আর এই উপাদানগুলো ছাড়াও উপাদান হিসেবে সামাজিক-আত্মপরিচয়মুক্ত না হলে কোনো সমাজ উৎসব উদ্​যাপনে সক্ষমতা অর্জন করে না। অন্যদিকে উৎসবটি সম্পন্ন হয় ধর্মীয়ভাবে, তাহলে সংশ্লিষ্ট সমাজের ধর্ম-সামাজিক সত্তার জাগরণীও আবশ্যক। পূর্ব বাংলা, অর্থাৎ বর্তমান বাংলাদেশে উপর্যুক্ত বিষয়গুলো ধীরে ধীরে সংগঠিত হয়েছে ১৯৩০-এর দশকের প্রজন্ম থেকে। ১৯৩৭ সালে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক বাংলার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে, বিশেষ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর হাতে থাকায় এবং দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের ঔদার্যে বেঙ্গল প্যাক্ট স্বাক্ষরিত হওয়ার ফলে এই রাজনৈতিক ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে যে নতুন শিক্ষিত মুসলমান মধ্যবিত্ত বাঙালি সমাজের উদ্ভব ঘটে, তাদের হাতেই বাঙালি মুসলমানের ধর্ম-সামাজিক আনন্দ-উৎসব হিসেবে সাংস্কৃতিকভাবে তাৎপযপূর্ণ ঈদ উৎসবের সূচনা। নব্য সামাজিক-সাংস্কৃতিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ এই মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর ঈদ উৎসবকে সর্বজনীনতা জ্ঞান করে কাজী নজরুল ইসলামের লেখা এবং আব্বাসউদ্দীনের কণ্ঠে রেকর্ড করা গান: ‘ও মন, রমজানের ঐ রোজার শেষে এল খুশীর ঈদ’। ১৯৪০-এর দশক থেকে শুরু হয়ে বাংলার ঈদ উৎসব ধীরে ধীরে ধর্ম-সামাজিক-সাংস্কৃতিক উৎসব হিসেবে বৃহৎ থেকে বিশাল আবর্তনে রূপান্তরিত হচ্ছে। তবে বাংলার আধুনিক ঈদ উৎসবের ‘সেকাল’ সত্তর-আশি বছরও এখন পর্যন্ত অতিক্রম করেনি।

 

বাঙালি মুসলমান মধ্যবিত্তের নতুন ধারার এই ঈদ উৎসবের উদাহরণ হিসেবে আমরা পারোনো ঢাকা জেলার কালীগঞ্জ থানার অধিবাসী পুলিশ কর্মকর্তা খন্দকার আবু তালেবের আত্মজীবনীমূলক রচনা থেকে একটা অংশ উদ্ধৃত করছি:

 

‘রমজানের ও ঈদের চাঁদ দেখার জন্য ছেলে-বুড়োদের মধ্যে তখনকার দিনে যে উৎসাহ–উদ্দীপনা দেখেছি, তা এখনো ভুলতে পারিনি। আমি যে সময়ের কথা বলছি সে সময়টা ছিল ব্রিটিশের [শেষ] আমল। রোজার চাঁদ ও ঈদের চাঁদের খবরাখবর তখন কলকাতা হতে প্রচার করা হতো।’ এখানে গ্রামাঞ্চলের শিক্ষিত ও সম্পন্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের ঈদ উদ্​যাপন এবং তার প্রস্তুতিপর্বের চিত্রও পাওয়া যায়। তৎকালীন ঢাকা জেলার পূর্বাঞ্চলের উপর্যুক্ত লেখকের বর্ণনায় আবার চোখ ফেরানো যাক। তিনি লিখেছেন:

 

‘রোজার পনর দিন যাওয়ার পর হতেই গৃহবধূরা নানা রকম নকশী কাঁথা তৈয়ার করতে আরম্ভ করত।…শবে কদরের রাতে মেয়েরা মেহেদী এনে তা বেটে হাতে নানা রকম চিত্র আঁকত। ফুলপিঠা তৈয়ার করার সময় বউয়েরা “প্রিয় স্বামী” আর অবিবাহিত মেয়েরা, “বিবাহ ও প্রজাপতি” এঁকে রাখত। ঈদের দিনে যুবক-যুবতী বন্ধু-বান্ধবীদের পাত্র দেখার জন্যই এ ধরনের ফুলপিঠা তৈয়ার করা হত।’

 

 

আর্কাইভ

জুলাই ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« জুন    
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১